কমলগঞ্জে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ , ২৪ মে ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

আব্দুর রাজ্জাক,কমলগঞ্জ : তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় যেমন মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়িয়েছে নানা ধরনের সাইবার অপরাধ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মশালা।

শনিবার (১২ মে) কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। সঞ্চালনায় ছিলেন রাকিব আহমেদ। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় মূলত সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার, ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় গোপন করে হয়রানি, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচকরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের সচেতনতা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত তারা ফিশিং, হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে।

আলোচকরা সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বাস্তব উদাহরণ দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করেন। তাঁরা বলেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তুললেই এসব অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। এজন্য প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। প্রত্যেকে যদি সচেতন হয়, তাহলে সমাজ থেকে সাইবার অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।”

বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু প্রমুখ। তাঁরা কর্মশালাটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

কর্মশালার শেষে ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সচেতনতা ছড়ালে সাইবার অপরাধও কমবে।