• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • সাবেক সাফজয়ী ফুটবলার আনাই মগিনীর জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মানবিক উদ্যোগ

সাবেক সাফজয়ী ফুটবলার আনাই মগিনীর জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মানবিক উদ্যোগ

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ , ১৭ মে ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক সাফজয়ী খেলোয়াড় আনাই মগিনীর জন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার নির্বাহী ক্ষমতাবলে আনাই মগিনীকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে (পরিষদ আইন, ধারা ৩৫ অনুযায়ী) আনাই মগিনীকে মাসিক সর্বসাকুল্যে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা বেতনে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্মারক নম্বর ২৯.৩৬.০১৮.৩৩.৬৬.০০১.২৫-১০০১, তারিখ ১৫ মে ২০২৫ অনুসারে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এ নিয়োগ সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং পরিষদ যে কোনো সময় এ আদেশ বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

আজ শনিবার (১৭ মে) দুপুরে পরিষদ চেয়ারম্যানের কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আনাই মগিনীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এসময় বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মাস্রাথোয়াই মারমা উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাতভাইয়া পাড়ার সন্তান আনাই মগিনী বাংলাদেশের নারী ফুটবলে এক উজ্জ্বল নাম। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তার গোলেই বাংলাদেশ শিরোপা জয় করে। তবে জাতীয় দলে বারবার অবহেলিত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে অভিমানে ফুটবল থেকে বিদায় নেন তিনি এবং খাগড়াছড়িতে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন।

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবার থেকে উঠে আসা আনাই ও তার যমজ বোন আনুচিং মগিনী ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখেছিলেন। তাদের পাশে দাঁড়ান শিক্ষক বীরসেন চাকমা। আনুচিং এখনো জাতীয় দলে খেলে যাচ্ছেন, তবে আনাই বিদায় জানিয়েছেন মাঠের লড়াই থেকে।

আনাই মগিনীর এই অবহেলা, ত্যাগ ও সংগ্রামের কাহিনি শুনে তার জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।

নিয়োগপত্র গ্রহণ করে আনাই মগিনী বলেন,“চাকরির মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেলাম। আমি কৃতজ্ঞ পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ম্যাডাম এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।”

ফুটবল মাঠে যেমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন আনাই, ঠিক তেমনই বাস্তব জীবনের সংগ্রামেও তিনি হয়ে উঠেছেন পাহাড়ি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। এই নিয়োগ শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়, বরং সমাজের প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান।