সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হতে হবে: জিরুনা ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ , ১৭ মে ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

“সকলকে মিলেমিশে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে। মোবাইলে আসক্ত না হয়ে শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।”

গতকাল শুক্রবার (১৬ মে ২০২৫) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের পেরাছড়া হেডম্যান পাড়ায় অনুষ্ঠিত বিঝু ২০২৫ (১৪৩২ বঙ্গাব্দ) উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।

হিল স্টার ক্লাবের আয়োজনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৈ-সা-বি (বিঝু) উদযাপন কমিটির আহবায়ক বিশ্ব জ্যোতি দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব ত্রিপুরা, মহালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পিপলু রাখাইন ও হেডম্যান পাড়ার কার্বারী তুষার কান্তি চাকমা।

এর আগে বিকেলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চূড়ান্ত পর্বে বলি খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জেলার শ্রেষ্ঠ বলি সৃজন চাকমা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন বাবু মারমা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন চিকন চাকমা।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিরা বলি খেলায় বিজয়ী চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও সম্মাননা তুলে দেন। এছাড়া বিঝু উপলক্ষে আয়োজিত অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় বিজয়ীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিজয়ী ও অবিজয়ী সকল প্রতিযোগীকে নগদ অর্থ উপহার দেন।

পরে সন্ধ্যা থেকে জমকালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন উদীয়মান শিল্পী জুলিপ্রু মারমা, জোনাকি চাকমা, আরশি ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় ‘ইমাং ব্যান্ড’, রাঙ্গামাটির ‘সাইক্লোন ব্যান্ড’ এবং খাগড়াছড়ি জেলা থেকে ‘য়াড়ুং ড্যান্স একাডেমি’।

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানান, বিঝু ২০২৫ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটি মূলত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে ১৬ মে শুক্রবার সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহায়তা করেন স্থানীয় জনগণ ও শুভানুধ্যায়ীরা।