নাটাই গ্রামে আগুন, আক্ষেপ আর আতঙ্কে গ্রাম শূন্য

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ , ২০ মে ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে

একটি গ্রামের গল্প এখন শুধুই পুড়ে যাওয়া ঘরের ধোঁয়া, কাঁদতে থাকা নারীর মুখ, আর শূন্য হয়ে যাওয়া উঠোন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই গ্রাম যেন এখন বর্বরতার মূর্ত প্রতীক—যেখানে মানবতা পুড়েছে, মায়া হারিয়েছে, আর প্রতিশোধ হয়ে উঠেছে নিত্য বাস্তবতা।

গত ১৪ মে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারান মিয়াজুল হোসেন (৫০)। তার মৃত্যুর রেশ না কাটতেই ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সহিংসতা। ছলিম বাড়ি গোষ্ঠীর অন্তত ৫০ টির বেশি বাড়িতে চালানো হয় হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাটাই গ্রামের পথে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা অবাক হয়ে উঁকি দিচ্ছেন জ্বলে যাওয়া ঘরগুলোর দিকে। বাতাসে এখনও ভাসছে পোড়া আসবাব, কাপড় আর স্বপ্নের গন্ধ। পথচারীরা বলছেন, “এমন পাষাণ মানুষহয়! ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।”
গ্রামের একাংশ এখন জনশূন্য। পুরুষরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আর নারীরা ভয়ে দরজা পর্যন্ত খুলছেন না। দুটি বাড়িতে সাংবাদিকরা গেলে পাওয়া যায় কেবল কান্না, ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস।

মর্জিনা বেগম, চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, “আমার গরু পর্যন্ত নিয়ে গেছে, আমি তো কোনো ঝগড়ায় যাইনি। বয়স্ক মানুষ, তবু মারধর করেছে।”

নাটাই গ্রামের ধ্বংসাত্মক ঘর-বাড়ি।

জান্নাতুন সানি, কেফায়েতের স্ত্রী, বলেন, “ঘর থেকে এমন কোনো জিনিস নেই যা তারা নেয়নি। আমরা কারো ক্ষতি করিনি, তবু ঘর ছাড়তে হলো।”

সিদ্দিক মিয়া, গ্রামের এক বৃদ্ধ, হাহাকার করে বলেন, “মানুষ হয়ে জন্মালেও আমাদের মধ্যে আর মায়া-মমতা নেই। সামান্য বিষয় নিয়ে আমরা আগুন জ্বালিয়ে দিই নিজের ঘরেই।”

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, চান্দের বাড়ি ও ছলিম বাড়ি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধই ছিল এই সহিংসতার মূল শিকড়। গত ১৩ মে মাদকসেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে। গত ১৪ মে মিয়াজুল হোসেন নিহত হলে প্রতিশোধে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী, হামলায় প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুটপাট হয়েছে ৩০টি গরু ও ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার। আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাফফর হোসেন জানান, “ঘটনার পৃথক দুটি মামলায় একাধিক অভিযুক্তের নাম রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।