কাশিয়ানীতে ৫০ বছরের রাস্তা বন্ধ, গৃহবন্দী দুঃস্থ পরিবার

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ , ২৪ মে ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

এস এম রুবেলঃ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের ওপর নেমে এসেছে অমানবিক নিপীড়ন। ৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি রাস্তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটিতে কলাগাছ রোপণ করে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে পরিবারটিকে। ফলে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে এক অসহায় পরিবার।

উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের দস্তর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কুদ্দুস শেখ—যিনি পৈতৃক জমিতে বসবাস করেন—তাঁর বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা কেটে সেখানে কলাগাছ রোপণ করেন একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ শেখের চার ছেলে: শামসু শেখ (৭০), ছিরু শেখ (৬৮), আফতাব শেখ (৬০) ও রেজাউল শেখ (৫২)। অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার দেশীয় অস্ত্র হাতে জোরপূর্বক দখলে নেন তারা ওই রাস্তা।

পরিবারটির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কুদ্দুস শেখের দুই ছেলে পেশায় ভ্যানচালক। কিন্তু এখন তারা ভ্যান নিয়ে বাড়ি ঢুকতে পারেন না। একদিকে জীবিকা বন্ধ, অন্যদিকে মানসিক যন্ত্রণা। অসুস্থ সদস্যদের হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়েছে দুঃসাধ্য।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. কুদ্দুস শেখ বলেন, “এই রাস্তা আমাদের বাপ-দাদার সময় থেকে ছিল। এই পথেই আমরা বড় হয়েছি। এই জমি আমাদের, এবং সরকারিভাবে টিআর/কাবিখা প্রকল্পের আওতায় এটি উন্নয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। আমরা যেন কারাগারে আছি। বারবার সালিসে আমাদের পক্ষে রায় হলেও তারা জোর করে দখল করছে। উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”

অপর পক্ষের সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা জমির উত্তর পাশে ভোগদখল করছিলাম, কুদ্দুসরা দক্ষিণ পাশে। আমরা বাড়িতে না থাকায় ওরা রাস্তা বানিয়েছে। এখন আমরা সেটা কেটে ফেলেছি।” রাস্তা কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ভাইকে ওরা মেরেছে, তাই ওদেরকে চলতে দেব না।”

এদিকে, এমন অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরজানা জান্নাত বলেন, “আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। যেহেতু এটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নকৃত রাস্তা, তাই কেউ এটি বন্ধ করতে পারে না। প্রয়োজনে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

একটি পরিবারের জীবন এমনভাবে থমকে যাওয়া যেন পুরো মানবিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখন দেখার বিষয়—কখন তারা তাদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার ফিরে পায়।