নওগাঁয় শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ , ২৭ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী রিফাত এর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে পথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরে কলেজের কলা ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে শাহরিয়া শিশির বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হক ও সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিদ্যুতের অপসারনের দাবী অবস্থান নেয়।

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী ও আরমান হোসেন সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এসময় কলেজে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয় তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা এসেছিলেন।

নওগাঁ সরকারি কলেজের ডিগ্রী (পাস) কোর্স এর শিক্ষার্থী শাহরিয়া শিশির। তিনি নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড়ের বাসীন্দা। ২০১৭ নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়। পরবর্তীতে সদস্য বাড়িয়ে ৩৫৪ জন করা হয়। ওই কমিটিতে শাহরিয়া শিশির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলো।

কমিটিতে সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তীতে ২০২০ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে যুক্ত হয়। দয়ালের মোড়ের বাসীন্দা নূর মোহাম্মদ লাল এর সমর্থক ছিলেন। এরপর ব্যাপারোয়া হয়ে উঠে শাহরিয়া শিশির। কলেজে একক আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

৫আগষ্ট ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়। এরপর কিছুদিন নিজেকে আড়াল করে রাখেন শাহরিয়া শিশির।

ঘোরপাল্টে শাহরিয়া শিশির নিজেকে আবারও ছাত্রদলের সদস্য দাবী করে। যদিও ছাত্রদলের পুর্বের কমিটি এখনো বহাল আছে। আবারও তিনি কলেজে কলেজের কিছু শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় একক আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।

শহরের মুক্তির মোড় থেকে কেডির মোড় সড়কের নওগাঁ বিএমসি মহিলা হোস্টেলের পাশে রাস্তায় পাথর ও বালি রেখে একটি ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে রিফাত তার ফেসবুক আইডিতে ওই নির্মাণ সামগ্রি নিয়ে ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করে।

সেখানে লিখে দেয় ‘আমাদের নওগাঁ মানুষের হাঁটার জায়গায় কিভাবে তারা ইট বালু খোয়া ফেলে দিয়ে রাখছে দেখেন কি করতেছে এইটা। এগুলো কি দেখতে পায় না আমাদের নওগাঁ জেলা প্রশাসক। এটা তো মানুষের হাতের হাঁটার জায়গা। এই জায়গায় কেন ঈদ ভালো ফেলে দিয়ে রাখবে।’

ঘটনার ৪দিন পর শনিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গনে রিফাতকে দেখে কথা আছে বলে শাহরিয়া শিশির তাকে মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে শাহরিয়া শিশির ও মারুফ সহ কয়েক এলোপাতাড়ি মারপিট করে। মারপিট শেষে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এসময় পাশেই অবস্থান করছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হক ও সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিদ্যুত। তাকে বাঁচানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাহরিয়া শিশির এর বিচারের দাবীতে স্বোচ্চার হয়ে উঠে। এদিকে নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শনিবার বিবৃতি দেয়া হয়েছে এ ঘটনার সাথে তাদের কোন ধরণের সম্পৃক্তা নেই।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী বলেন- ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে আওয়ামী লীগ এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবে না। এখনো আওয়ামী লীগের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা সুযোগ খুঁজছে। আমরা তাদের সে সুযোগ দিবো না। আমার সামনে শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধর করা হয়েছে। পাশে অধ্যক্ষ সামসুল হক ও সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিদ্যুত ছিলেন।

এখন তারা বার বার শাহরিয়া শিশিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবী করছি। সেই সাথে অধ্যক্ষ সামসুল হক ও সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিদ্যুতের অপসারণ দাবী করছি। যদি এ ঘটনার বিচার না হয় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

এ বিষয়ে শাহরিয়া শিশিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, শাহরিয়া শিশির আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে যুক্ত ছিল। বর্তমানে হয়তো নিজেকে ছাত্রদল দাবি করছেন। শিক্ষার্থীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হক বলেন- পাশেই বহিরাগতদের দুই পক্ষের মারপিট হচ্ছিল। কি বিষয়ে নিয়ে এর মারপিট হচ্ছিল আমার জানা নেই। যেহেতু শিক্ষার্থীরা আমাকে এই কলেজে চাইনা যদি অন্যত্র বদলি হয় আমি চলে যাবো। এর বেশি আর কিছু বলার নাই।