মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দোকানকোটা ভাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে সিএনজি পাম্প, খাবার হোটেলসহ বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। রবিবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের মন্তান মিয়ার ছেলে রকিব মিয়া বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মুকিদ মিয়া (২২), ছোবহান মিয়া (২৫), সাইফুর মিয়া (২৮), ফজিজুন বেগম (৪০), শেফালী বেগম (৪৫), মিলাদ মিয়া (২৩), মন্ধান মিয়া (৫০)। তারা সবাই কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়-৬নং আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের মৃত বারিক মিয়া ছেলে আব্দুল মতিন (৬০), জুয়েল মিয়া (৩৫), রাসেল মিয়া (৩৪), রশিদ মিয়া (৫০), মন্নান মিয়া (৬০), ময়ূরী বেগম (৫০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে জায়গার বিষয়াদি সহ পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়া বিরোধ হয়ে আসছে অভিযুক্ত আব্দুল মতিন মিয়ার পরিবারের সাথে রকিব মিয়ার। প্রায় ৪ বছর পূর্বে জায়গা জোরপূর্বক দখল করিয়া বাজারের একটি দোকান তৈরী করে আব্দুল মতিন মিয়ার পরিবারের সাথে। সেই দখলকৃত জায়গায় ভাড়া নিয়ে পোল্ট্রির ব্যবসা করে আসছে মুকেদক মিয়া।
গত শনিবার রাতে দোকান ছাড়ার কথা বলা হয় মুকেদ মিয়াকে। কিন্তু কিছুদিন দোকানে খুলে রেখে বকেয়া টাকার টাকা তুলার জন্য কিছুদিন দোকান খুলা রাখবে মুকেদ মিয়া। তাহার এই প্রস্তাবে রাজি হয় আব্দুল মতিন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই দোকানের বিষয়কে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে করে অভিযোগকারী রকিব মিয়ার পরিবারের ৭জন গুরুত্বর আহত হয়। তারা সবাই কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রশাসন যেন কঠোর হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
থানায় করা অভিযোগকারী রকিব মিয়া জানান, ‘মানুষ মানুষকে এভাবে রক্তাক্ত করতে পারে সেটা তাকলে ‘আমাদের পরিবারের ৭-৮জন পুরুষ মহিলা গুরুতর আহত হয়েছে। তারা সবাই এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন যেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে মতিন মিয়ার মোটোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানায় অভিযোগ হলে দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত