
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্বামী পরিত্যক্তা তিন সন্তানের এক জননীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের পর থেকে বিবাদী তোফাজ্জল হোসেনের অব্যাহত প্রাণনাশে হুমকীতে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে নির্যাতিতা ওই নারী।
এঘটনাটি উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের এক গ্রামে ঘটেছে।
মামলার আসামীরা হলো পাইকুড়া ইউনিয়নের চিটুয়া নওপাড়া গ্রামের ফজলু মিয়া ছেলে তোফাজ্জল (৩৭)। মামলা দায়ের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আসামীরা এখনো অধরা রয়েছে।
মামলার এজাহারে বিবাদী বলেন, বিবাদী একজন দুশ্চরিত্রের লম্পট, ধর্ষণকারী অবিবাহিত যুবক। বিবাদী তার একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার ২/৩ দিন পূর্বে তাকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং ধর্ষনের অপচেষ্টা করে। গত বছর ২০ অক্টোবর রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে থাকিলে বিবাদী হাতে কিরিচ নিয়া তার বসত ঘরে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করে।
লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানায়নি। পরে বিষয়টি নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় মাতব্বরগণকে জানালে বিবাদী তাকে বিয়ে করবে এমন আশ্বাস দিয়ে এক মাসের সময় নেয়। এই ফাঁকে বিবাদীর অন্যত্রে বিয়ে করে পেলে এবং তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিচারের আশায় দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন ওই নারী। এ অবস্থায় মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
নির্যাতিত ওই নারী জানান,অক্টোবর মাসের ঘটনা ঘটলে গ্রামের নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় মাতব্বরগণকে জানালে সে বিয়ে আশ্বাস দিয়ে অন্যত্রে বিয়ে করেছে। পরে বিচার চাইতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেয়। কোর্টে গিয়ে দেখি ডিসেম্বর মাস কোর্ট বন্ধ। পরে মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পে যাই।
সেনাবাহিনীর সহায়তা থানায় মামলাটি করতে পেরেছি। মামলা দায়ের পর তাদের পরিবারের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকীর ভয়ে তার স্কুল পড়ুয়া তিন কন্যাকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই। কান্নাজড়িত কন্ঠে ওই নারী আরো জানান, আমার মা-বাবা বেঁচে নেই। বর্তমানে পাশ্ববর্তী ইউনিয়নে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। দুই মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ অবস্থা তাদের লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার পথে।
লোকলজ্জায় তারা স্কুলে যেতে চায় না। আসামীরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও তেমন কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় হতাশ হওয়ার কথা জানায়। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন,তারা বাদী-বিবাদী নিজেদের লোক। আমরা চেষ্টা করেছিলাম মিমাংসা করার কিন্তু শেষ পারলেন না বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল মিয়া জানান,ঘটনাটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়ও খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...