
নওগাঁর মহাবেদপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের হিন্দু বাঘা মেলায় অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মেলা কমিটির বিরুদ্ধে। পণ্য বিক্রেতা ও এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার রাতে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মেলা কমিটির নিজস্ব বাহিনী দিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন। কমিটির নিজস্ব বাহিনীর লোকজনের হাতে সাধারণ বিক্রেতারা হেনস্থা ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘঠেছে। এছাড়াও খাজনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও অনেক ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার ( ৭ফেব্রুয়ারি ) শুরু হওয়া এই মেলায় সরকারি ভাবে ১লক্ষ ২০হাজার টাকায় ডাক বা লিজ নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মেলায় আগত মিষ্টি ও ঝুড়িপট্টি, সবজি, খেলনা, কসমেটিক্স, ঘুড়ি, ফার্নিচার বিক্রি করতে আসা বিক্রেতাদের কাছে থেকে অবৈধভাবে খাজনার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন।
এতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে দোকানদাররা মেলা কমিটির ভয়ে বাধ্য হয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাজনা দিচ্ছেন। তাদের চাহিদামত খাজনা না দিলে দোকান উচ্ছেদ করারও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
পানিসাল গ্রামের আফতাব হোসেন মেলায় মিষ্টির দোকান দিয়েছেন, কথা হলে তিনি বলেন- গত বছর বিশ হাজার টাকা দিয়ে দোকান এর জায়গা নিয়েছিলাম কিন্তু এবার এক প্রকার জোড় করেই ৫০ হাজার টাকা নিলো মেলা কমিটি। চাহিদামত টাকা না দিলে দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি দেয় মেলা কমিটির লোকজন। তাই বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হলো।
মান্দা উপজেলার দক্ষিন মৈনম গ্রাম থেকে এসেছেন আরেক মিষ্টি দোকানী হাফিজুর রহমান। তাকে দিতে হয়েছে ৪১হাজার টাকা । তিনি বলেন, ১৫০০টাকা করে ফিট জায়গা অনুযায়ী মোট ২৯ফিট জায়গা বরাদ্দ নিয়েছি। গত বছর ৬০০টাকা ফিট ছিল। এ বছর ১৫০০টাকা ফিট অনুযায়ী টাকা নিয়েছে। এতে প্রতিবাদ করলে আমাকে ভয় দেখায় এবং আমার দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করার হুমকিও দেয়।
রথিন চন্দ্র নামের মিষ্টির দোকানী বলেন, এ বছর ৯৫হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কিছু করার নেই। মেলা চলার আগে দোকান দেওয়ার সময় তারা কিছু বলেনি। কয়েকদিন পর এসে তারা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো গত বছরের মতই নির্ধারিত খাজনা আদায় করবে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, মেলায় চটপটি, ঝালমুড়ির দোকানের জায়গার জন্য খাজনা ছিল গত বছর ১০০ টাকা থেকে ১২০টাকা ফিট। এবার ৩০০টাকা ফিট নির্ধারণ করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। লোহা জাতীয় দোকানের জায়গার জন্য খাজনা ছিল গত বছর ১২০ টাকা ফিট। এবার ২৫০টাকা ফিট নির্ধারণ করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। কসমেটিকস অন্যান্য দোকানের জায়গার জন্য ২৫০টাকা ফিট নির্ধারণ করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে । যা গত বছর ছিল ১২০টাকা ফিট।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন বলেন, ডাকসহ সবমিলে এবার ১লক্ষ ৬০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যাদের জমি -জায়গা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে নিদিষ্ট পরিমান টাকা দিতে হয়। মেলা চালাতে অনেক খরচ হয়। আবার দলীয় কিছু বিষয়ও থাকে সেদিকেও দেখতে হয়। গতবারের চেয়ে এবার সামান্য কিছু খাজনা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী রাম প্রসাদ ভদ্র বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মেলা। মেলাটি বহুবছর থেকে হয়ে আসছে। সবাই আনন্দের সাথেই মেলায় অংশগ্রহণ করে। অতিরক্তি খাজনা আদায় বা কারো সাথে খারাপ আচরণ করা দুঃখজনক। সার্বিক বিষয়ে মেলা কমিটির আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) হাশমত আলী বলেন, বিষয়গুলো জানা নেই। যদি কোন অভিযোগ পাই বা কেউ অভিযোগ করেন তবে বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, লিজ নিয়ে মেলাটির আয়োজন করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত খাজনা আদায় যুক্তিযুক্ত নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাষ্টার প্যারেড ও কিট প্যারেড...
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাষ্টার প্যারেড ও...
ইবিতে চাকরি হারালেন ২৬৮ কর্মচারী
ইবিতে চাকরি হারালেন ২৬৮ কর্মচারী
ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরাইল সহায়তা কমানোর প্রস্তাব...
ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরাইল সহায়তা...
গাজার চিকিৎসক অ্যাডাম হামাউয়ি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত
গাজার চিকিৎসক অ্যাডাম হামাউয়ি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে...
রাজৈরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
রাজৈরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী...
ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলন শান্ত, পুলিশ-বিজিবি সতর্ক
ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলন শান্ত, পুলিশ-বিজিবি সতর্ক