গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

জামাল হোসেন পান্না,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মনি চৌধুরী (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সাদ্দাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মহাব্বত চৌধুরীর মেয়ে মনি চৌধুরী। তিন বছর আগে একই গ্রামের মোঃ ফারুকের ছেলে মেহেদীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহতের পিতা মোঃ মহাব্বত চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় মনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন এবং তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে মনিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মনিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

নিহতের দুলাভাই মো. ইউসুফ জানান, মনির স্বামী মেহেদী উপার্জন করতেন না, এ নিয়ে তার শ্বাশুড়ি প্রায়ই মনিকে বকাঝকা করতেন। এছাড়া মেহেদীর অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তিনি আরও জানান, মনির মৃত্যুর খবর শ্বশুরবাড়ি থেকে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জানানো হয়।

হাসপাতালে গিয়ে মনিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে অথবা গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে মনির তিন বছরের মেয়ে মুনতাহার (৩) কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

মহাব্বত চৌধুরী তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনির মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এমনটা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হলেও মনির স্বামী মেহেদীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা।

নবীননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।