কর্মবিরতিতে নেমেছে গ্যাস কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্মচারীরা

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানীর অস্থায়ী কর্মচারীদের বিক্ষোভ।

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতিতে নেমেছে করেছেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানী লিমিটেড, পেট্রোবাংলার ১৩ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীরা।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ থেকে তারা বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানী লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনের চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থা নেন। চাকুরী স্থায়ীয়করণ ও ঠিকাদারের অধীনে কাজ না করা ও গ্রেড অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে পেট্রোবাংলার ১৩ টি কোম্পানীর আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা।

“বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড এ ঠিকাদার নিযুক্ত নৈমিত্তিক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ” ব্যানারে আন্দোলন করা আউটসোর্সিং কর্মীরা দাবি করেন,  চাকরিতে আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল করতে হবে। অবিলম্বে সব আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরিতে স্থায়ীকরণ করতে হবে। তাদের এ দাবিগুলো না মানলে টানা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

নৈমিত্তিক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি মোঃ হিরু বলেন, বিগত সরকার পতন করা হয়েছে বৈষম্য দূর করার জন্য। সেই আশা নিয়ে সারাদেশের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ন্যায় বাংলাদেশ গ্যাসফিস কোম্পানি লিমিটেড পেট্রো বাংলার অধীনে থাকা ১৩ টি কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্ম কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত ছিল। একটি যৌক্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় আউটসোর্সিং এর কর্মচারীরা।  আজকে ন্যায্য দাবি নিয়ে গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েছি,  কারণ দীর্ঘদিন এই কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত হয়ে কাজ করে আসছি। কাজ করি আমরা কোম্পানির, কিন্তু বেতন দেয় ঠিকাদার। আমরা যেহেতু কোম্পানির কাজ করি তাই কোম্পানি আমাদের সরাসরি বেতন দিবে।

নিয়োগে বৈষম্য হয় বলে দাবি করে মোঃ হিরো আরো বলেন, আজকের আন্দোলনে উপস্থিত সকল কর্মচারীরাই দীর্ঘ বছর ধরে এই কোম্পানির সাথে কাজ করে আসছে। অভিজ্ঞতাও অনেক হয়েছে। তবে কত নিয়োগ আসে যায় আউটসোর্সিং এর কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হয় না। কারণ বিজিএফসিএল অনেক দুর্নীতি করে।  তাছাড়া কাজ করানোর সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ বলে আমরা কোম্পানির একজন সহকর্মী। কিন্তু সুযোগ সুবিধার সময় তারা বলে ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে। এছাড়া সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কথা বললে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকির কথাও জানান এই কর্মচারী।

কম্প্রেসার মেইনটেইনার মোহাম্মদ আনিস বলেন, প্যাসিস্ট সরকার চলে গেলেও, দাস প্রথা রেখে গিয়েছে।  আমরা চাই, ঠিকাদার অধীনে নয় কোম্পানি আমাদেরকে বেতন- ভাতা দিবে। বিজিএফসিএলে আউটসোর্সিং এ যারা কাজ করে তাদের কোন মূল্য নেই। কুকুর বিড়াল যারা পড়ছে তাদেরকে একটা লাথি দিলে অন্তরে কষ্ট লাগে, কিন্তু আউটসোর্সিং এর কর্মরতদের লাথি দিতেও গায়ে লাগেনা। তাই প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই কর্মচারী।

পরিছন্নতাকর্মী রিক্তা আকতার বলেন, আমরা যারা আউটসোর্সিং এ কর্মরত মহিলা রয়েছে তারা খুবই অবহেলাই আছি। কোন সুযোগ সুবিধা আমাদের দেওয়া হয় না। গত দুই বছর আগে আমার ছেলে মারা যায়। মৃত্যুর কারণে প্রায় ১৫-২০ দিন আমি কাজ করতে আসতে পারিনি। পরে যখন এসে আমার বেতনের টাকা চাইলাম তখন ঠিকাদার বলে যেহেতু ১৫-২০ দিন আসেনি এতদিনে বেতন দেওয়া হবে না।  আমরা এই ধরনের অমানবিক আচরণ থেকে মুক্তি চাই।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড এর জিএম মেইনটেনেন্স (এনআইসিটি) মোঃ আমানউল্লাহ বাহার জানান, আমরা ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছি। সে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক করবেন। সেতু আউটসোর্সিং এর কাজ করা শ্রমিকদের বিজিএফসিএল সরাসরি নিয়োগ দেয় নি সেহেতু বেতন ভাতা দিয়ে এবং সুযোগ সুবিধার ব্যাপারের বিষয়ে ঠিকাদারই দেখবেন।

কর্মচারীদের দাবির বিষয়ের এক প্রশ্নে বলেন,  পেট্রোল বাংলা ১৩ টি কোম্পানির কোথাও এমন সরাসরি নিউ দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি আমরা অবগত নই। আর বিজিএফসিএলে এ ধরনের নিয়োগের কোন সুযোগ নেই।