বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া কি খাইয়া জান বাচাঁমো কন?

প্রকাশিত: ৮:০২ পূর্বাহ্ণ , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
বিজয়নগরের বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকায় তিতাস নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে তুলছে বালু।

বিজয়নগরের বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকায় তিতাস নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিত বালু তোলায় কৃষি জমির ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সেই এলাকার সোনাই নদীর পাড়ের মাটিও কাটা হচ্ছে দেদাড়সে।

এমন পরিস্থিতিতে বালুমহালের ইজারা বাতিল এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা বন্ধে এবং নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা বন্ধের দাবী নিয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষকরা।

সোমবার দুপুরে নদীর পারে ব্যানার নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন শশই গ্রামের লোকজন। তাঁরা নদীর ধারে এক পাশে সারি করে দাঁড়িয়ে যান।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগটি করেন: বুধন্তি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল ইসলাম, বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ হাবির রহমান ও মো খবির রহমান মনির।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজযনগরের বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকার তিতাস নদীর রূপ লোকনা বিলের মধ্য ট্যাগে বালু উত্তোলনে জন্য ড্রেজার বসায় স্থানীয় অজ্ঞাত লোকেরা। তবে সেই ড্রেজার নির্দিষ্ট সীমানায় না থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয় কৃষকদের ফসলী জমি ভেঙ্গে যাচ্ছিলো। পরে কৃষক ও স্থানীয়রা ক্ষুব্দ হয়ে একত্রে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে বাঁধা প্রদান করে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দদের কিছু নেতাদের যোগসাজশে আবারও তারা বালু উত্তোলন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজয়নগরের বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকায় মানববন্ধন।

স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, শশইয়ের তিতাস নদীর রূপ লোকনা বিলের মধ্য ট্যাগ এলাকায় ৪-৫শত একর কৃষি জমি রয়েছে। তাদের ফজল মিয়ার ২ একর, জিলু মিয়ার ৩ একর, দানু মিয়ার ৫ একর, নূর ইসলামের ৪ একর সহ প্রায় দেড়শত কৃষকের জমি রয়েছে।

এসময় মাবনবন্ধনে আসা বৃদ্ধা জাহানারা বেগম বলেন, আমার একখান (একটি) জমি রয়েছে। জমির লগে (পাশে) দিয়ে তিতাস নদী থেকে বালু তোলার কারণে অনেক ডরে আছি। আমার স্বামী অন্ধ। জমির মাটি যদি ভাইঙ্গা যাগা আমি বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া কি খাইয়া জান বাচাঁমো কন? আমি জান দিতে রাজি, কিন্তু বালু দিতে রাজি না।

কৃষক শরীফুল মিয়া বলেন, আমাগো সব ফসলি জমি নদীতে ভাইঙ্গা যাইতাসে। কৃষক মানুষ আমরা, ওগো (ইজারাদার) বাধা দিলেও শোনে না। আমাগো উল্টো ভয় দেখায়। বুধন্তির চমক মিয়া, মিজানুর, সোহেল, ইসলামপুরের রাসেল, হেলাল আসাদ, আলীনগর থেকে রাষ্টু বালু তুলতেছে।

একই ভাষ্য, উপজেলা যুব দলের সদস্য মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শামসু মিয়া, হাজী নান্নু মিয়া, আব্দুল আমিন সর্দার, আজিজুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন, জিল্লুর রহমানসহ মানববন্ধনে থাকা স্থানীয় লোকজন ও কৃষকদের।

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, মহাসড়কের কাজের জন্য পিডিএল নামের একটি কোম্পানী আবেদন করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছে। আর গ্রামবাসীর কোনো আবেদন বা লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে করেনি। আর জেলা প্রশাসন থেকে অভিযোগের কোনো অনুলিপি আমাদের কাছে আসেনি।