নওগাঁয় বিনা মূল্যের বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ , ২ জানুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

নওগাঁয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলার বদলগাছি উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটে। বই বিতরণে শিক্ষার্থী প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আবার যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের দেওয়া হয়নি বই। এই নিয়ে এলাকায় তোলাপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। বইয়ের জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে প্রাক্ প্রথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির পর্যন্ত ১৩৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বেশি ভাগ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি। বছরের প্রথম দিনে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের জন্য সব বই সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বই বিতরণও করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী প্রতি ২০০ টাকা করে আদায়ের পর বই বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী আয়েমা সিদ্দিকা, মেঘনা, শ্রীতি, শ্রী কৃষ্ণ, মফিজুল, নন্দ, অরণ্য বই বিতরণে টাকা নেয়ার কথা জানিয়ে বলে, বই দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। টাকা না দিলে বই দেওয়া হবে না- বলে আমাদের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. লিন্ডা রাখা জানিয়ে দেন। তাই বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা করে দিয়ে আমরা বই নিয়েছি। আবার যারা টাকা দেয়নি তাদের বই দেওয়া হয়নি।

মাহফুজ, আবুতালেব, ফাতমাসহ কিছু অভিভাবক বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ বই বিতরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে না দিলে তারা বই দেয় না। এই কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ২০০ টাকা করে দিয়ে বই নিয়ে আসছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. লিন্ডা রাখা বলেন, টাকা না দিলে বই দেওয়া হবে না, এটা সত্য নয়। টাকা না দিতে পারা অনেক শিক্ষার্থীকে আমরা বই দিয়েছি। তবে বিদ্যালয়ের মা সমাবেশের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ২০০ টাকা করে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬ জন শিক্ষার্থী টাকা দিয়েছেন। আজ কিছু অভিভাবক এসে অভিযোগ করায় টাকা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি বলেন টাকা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানেন। তিনিই আমাকে ২০০টাক করে নিতে বলেছেন।

বদলগাছি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কেউ যদি টাকা দেয় তাহলে নেয়া যেতে পারে। তবে প্রধান শিক্ষক মোছা. লিন্ডা রাখাকে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোন অনুমতি দেননি।

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বই বিতরণ নীতিমালায় এটি বিনামূল্যে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বই বিতরণের নামে এভাবে টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই। যদি এভাবে টাকা নেয়া হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।