সরাইল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, রোগীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ , ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মো.তাসলিম উদ্দিন সরাইলঃ দেশের প্রাচীন জনপদের নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা নয়টি ইউনিয়ন জনগণের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে ওঠে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসক সংকটে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

মঙ্গলবার(২৪ডিসেম্বর ) সকালে সরেজমিনে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভিড় করে আছে। কিন্তু কয়েকটি বিভাগের ডাক্তার না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ নিয়ে চলে যাচ্ছে।

জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক একের পর এক রোগী দেখছেন। রোগীদের লম্বা সিরিয়াল লেগে থাকায় পাশাপাশি সহকারী বা ওয়ার্ড বয় রোগীদের ইনজেকশন পুস করা ও ড্রেসিংসহ যাবতীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

চিকিৎসক না থাকায় সারা হাসপাতালজুড়ে রোগীদের আহাজারি ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাছাড়া যে সকল রোগী ভর্তি আছে তারাও সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, আয়া ও ওয়ার্ড বয় সংকটের কারণে ভর্তিকৃত রোগীরাও সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরাইল এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছরের শরিফ গত মাসে স্ট্রোক করেন। তাকে নেওয়া হয় সরাইল ৫০ শস্য বিশিষ্ট হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে নিউরো বিশেষজ্ঞ না থাকায় ২০ কিলোমিটার দূরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিতে বাধ্য হন স্বজনরা। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন তিনি।

একই অভিযোগ সরাইলের বাসিন্দা রাবিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘ হাসপাতালে কোনও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নেই। আমার স্বজনকে মেডিসিনের ডাক্তার দেখাতে হবে। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারছি না।’তাদের মতো সরাইল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে একই ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাইল ৫০ শস্য বিশিষ্ট হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ২৫ চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। ১৩ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বহির্বিভাগে আগত রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে নেই সার্জারি বিশেষজ্ঞ। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

দীর্ঘপথ যেতে গিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন সংকটে পড়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তবে রোগী ভর্তি সংখ্যা ৩০-৪০ জন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা গড়ে ৩০০-৪০০ জন।হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই।

এ কারণে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে অস্ত্রোপচার করতে হয় রোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), কনসালট্যান্ট (চক্ষু ), কনসালট্যান্ট (নাক, কান ও গলা), কনসালট্যান্ট (শিশু), মেডিক্যাল অফিসার পদ শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কথা হয় সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালে বিভিন্ন শূন্য পদে চিকিৎসক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হবে।

চিকিৎসক সংকটের জন্য চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। তবে সমস্যা থাকবে না। চিকিৎসক নিয়োগ হলে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।