সরাইলে শীতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ তোশক কারিগরদের

প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ , ৭ ডিসেম্বর ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইলঃ উপজেলা ঘুরে জানাযায়, লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। কেউ নগদ টাকায় আগে থেকে তৈরি করাগুলো কিনে নিচ্ছেন, কেউ বানানোর জন্য অর্ডার দিচ্ছেন। কেউ কেউ পুরোনো লেপ-তোশক ঠিকঠাক করিয়ে নিচ্ছেন।

এ অঞ্চলে ঠান্ডা যত বাড়ছে ততই বিক্রি বাড়ছে লেপ-তোশক। তবে গত বছরের তুলনায় তুলা ও কাপড়ের দাম বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন দোকানিরা।

শীতের আগমনে কদর বেড়েছে লেপ, তোশক ও জাজিমের। এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলার কারিগররা।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,শীত নিবারণের জন্য লেপ-তোষক বানাতে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

কারিগররাও এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরাইল সদর, কালিকচ্ছ বাজার, অরুয়াইল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। দোকানিরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন, নিচ্ছেন অর্ডার। কারিগররা তাদের নিপুণ হাতে সুই সুতো নিয়ে করছেন কাজ, তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ-তোশক-জাজিম।

এ বছর বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম ৪০-৫৫ টাকা, তোশকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪০-৫০ টাকা এবং প্রতি গজ জাজিম তৈরির কাপড়ের দাম রাখা হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা করে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি কার্পাস তুলার দাম ১৬০-২২০ টাকা, পোলি তুলার দাম ১২০-১৩০ টাকা, উলের দাম ৫০-৬০ টাকা ও প্রতি কেজি জুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকা করে। এ বছর এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে, তোশক বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে এবং জাজিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ টাকা থেকে ৪২০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বালিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

বাবুল মিয়া বলেন,কয়দিন আগেও তেমন কাজ ছিল না। তবে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে কাজের চাপ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, সচরাচর আমাদের জানুয়ারি -ফেব্রুয়ারি দুই মাস কাজ থাকে না। কিন্তু এবার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি। তবে কাজ করতে ভালোলাগে।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, এবারে বেশি শীত হতে পারে। তাই আগে লেপ তৈরির জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি। আমরা গরিব মানুষ। কম্বলের যে দাম সেটা কেনার সামর্থ্য নাই। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি। লেপ শীতকাল কাটে ভাল ও আরাম।