শেরপুরে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ , ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মোঃ আবু হানিফ, শেরপুরঃ শেরপুরে ওষুধ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম (৩৫) হত্যা মামলার প্রভাবশালী আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে শেরপুর জেলা শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেজাউল করিমের বোন জামাই ও মামলার বাদী মুকুল হোসেন। মুকুল শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী।

নিহত রেজাউল করিম সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকার রেজাউল মেডিকেল হলের মালিক ছিলেন। গত ২৫ অক্টোবর রেজাউলের লাশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে মুকুল হোসেন বলেন, তাঁর শ্যালক রেজাউল করিম গত ২৪ অক্টোবর সকাল নয়টায় শেরপুর সদরে উপজেলার পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তারাকান্দি বাজারের ওষুধের দোকানের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। কিন্তু রেজাউল বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে (রেজাউল) খুঁজতে থাকেন।

গত ২৫ অক্টোবর শেরপুর সদর থানার মাধ্যমে রেজাউলের লাশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি স্বজনেরা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রেজাউলের লাশ নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পরে ময়নাতদন্ত শেষে দুর্গাপুর থানা হতে রেজাউলের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রেজাউলের লাশ দাফন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে মুকুল হোসেন বলেন, ‘ভারত পুলিশও রেজাউলের লাশের সুরতহালসহ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। সুরতহালে তাঁর শরীরে কোন গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

রেজাউলের মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হয় যে, তাঁকে (রেজাউল) কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা রেজাউলের মৃত্যুর বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে থাকি। এক পর্যায়ে জানতে পারি, শেরপুর সদর উপজেলার তারাকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু দুস্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে হত্যা করেছে।’

পরে গত ১২ ডিসেম্বর মুকুল হোসেন বাদী হয়ে শেরপুরের সি আর আমলী আদালতে রেজাউল করিমকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর উপজেলার পূর্ব আলিনাপড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরকে প্রধান আসামিসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে সদর থানার পুলিশ গত ২৪ ডিসেম্বর মামলাটি এফআইআর হিসেবে লিপিবদ্ধ করে।

সংবাদ সম্মেলনে মুকুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মামলাটি থানায় এফআইআর হওয়ার পর থেকে এজাহারনামীয়  কয়েকজন আসামি বিভিন্ন সময় মুঠোফোন থেকে তাঁকে (মুকুল হোসেন) এবং রেজাউলের মা-বাবা ও স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এমতাবস্থায় মৃত রেজাউলের দুই শিশু সন্তানসহ তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারসহ তাঁদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট জোর দাবি জানান তিনি।

মামলার বাদী এবং নিহতের পরিবার সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন এই মামলার প্রভাবশালী আসামী মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে দিলেই এই হত্যা মামলার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রেজাউল করিমের বাবা আব্দুস সাত্তার, রেজাউলের স্ত্রী কলি বেগম, রেজাউলের বড় বোন রূপালী বেগম ও রেজাউলের জেঠাত ভাই আব্দুল মান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।