জীবনে ফিরতে সরকারি তরফে জীবনমূখী সহায়তা প্রদান

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ , ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

২৩ বছর সাজা ভোগ করে ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছেন ইসমাইল হোসেন। একটি মামলায় ১৯ বছর বয়সে যাবজ্জিবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ে তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে অনেক কিছু। কিন্তু জেলখানার ভেতরেই গড়ে তোলেন আরেক ভবিষ্যত। কারাগারে শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় মুক্তির পর নতুন বাড়িসহ জীবনমূখি সহায়তা পেলেন।

ইসমাইলকে পুনর্বাসন করতে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের উদ্যোগে সবজি বিক্রির জন্য একটি রিকশা-ভ্যান, মূলধন হিসেবে নগদ টাকা ও বসবাসের জন্য আশ্রয়নের একটি বাড়ি দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসেন নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। তিনি বলেন, পারিবারিক হলহের জেরে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ১৯৯৯ সালে জড়ানো হয় তাকে। সেই মামলায় ১৯ বছর বয়সে জাবজ্জিবন কারাদন্ডে দন্ডিত হোন। এর পর থেকে নওগাঁ জেলা কারাগারেই বন্দি ছিলেন।

তিনি বলেন, মামলা চলাকালে আদালতে তাকে অনেক হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। উকিল খরচ ও মামলার অন্যান্য ব্যায় মিটাতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বল ২ বিঘা জমিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। খরচ চালাতে ব্যার্থ হয়ে একসময় বিচারের আশা ছেড়েদেন স্বজনরা।

সেসময় ইসমাইলের এক স্ত্রী ও এক ছেলে সন্তান ছিলো। পরবর্তীতে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। ২৩ বছরে অনেক কিছু ঘটে গেছে তাদের পরিবারে। একটা সময় জেলখানায় তাকে আর কেউ দেখতেও আসতো না। কিন্তু দ্বায়িত্বশীল আচরণ ও শৃঙ্খলা মেনে চলার কারনে কারাগারে সুনাম ও অনেকের প্রিয় ভাজন হয়ে যান।

কারাগারে দর্জির কাজ করতেন ইসমাইল। বন্দি জীবনেই শিখেছেন সেলাই। পরবর্তীতে ২৩ বছরে ধীর-ধীরে নিপুন সেলাইয়ের দক্ষ কারিগর হয়ে উঠেন। কারা রক্ষি ও বন্দিদের পোষাক সেলাই মেশিনে তৈরী করে দিতেন। তবে কারাভোগের দিকে সেলাই খুব কমই করতেন, ছিলেন কাটার মাষ্টার।

কিন্তু আগের মত আর চোখে ভালো দেখতে পান না। ফলে দর্জির কাজ করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই জেল থেকে মুক্ত হলে আগামী জীবনে কি করে চলবেন তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পরেন ইসমাইল। জীবনের এ পর্যায়ে এসে সহযোগিতা ছাড়া সমাজে আর প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে সবজি বিক্রেতা হওয়ার স্বপ্ন আঁকেন। এরপর সেই আবদার তুলে ধরেন কর্মকর্তাদের কাছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, সমাজে প্রতিটি মানুষের সুন্দর ভাবে বাঁচার অধিকার ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন থাকে। ইসমাইলের জীবন থেকে ২৩ টি বছর ঝড়ে গেছে। পরবর্তী জীবন যাপনে তিনি (ইসমাইল হোসেন) যাতে কোন অপরাধের সাথে জড়িয়ে না পড়েন সে জন্য সরকারী তরফে জীবনমূখী সহায়তা দেয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ইসমাইলের হাতে নতুন ঘরের চাবি, রিকশা-ভ্যান এবং সবজির ব্যবসা করার জন্য মুলধন হিসেবে নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা তুলেদেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল।