কালিদাস পাহালিয়া নদীতে ভাঙন, হুমকিতে লেমুয়া ব্রিজ

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ , ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ফেনীর জনপদ। পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। বন্যার পানিতে একদিকে ঘরবাড়ি হয়েছে লণ্ডভণ্ড অন্যদিকে নদীর পাড়ের মানুষদের নতুন আতঙ্ক নদী ভাঙন। মুহুরী নদীর বিভিন্ন বাঁধে ভাঙনের পর এবার পানির প্রবল স্রোতে ফেনীর কালিদাস পাহালিয়া নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর। ইতোমধ্যে পাড় ভেঙে প্রায় ৬ একর জায়গা নদীতে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া ব্রিজ নামে একটি সেতু।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, কালিদাস পাহালিয়া নদীর ওপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া ব্রিজ। ব্রীজ সংলগ্ন টঙ্গির পাড় এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, গত দুইদিনে নদীর পাড়ে ৫০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা বলছেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে খুব শীগ্রই নদীর পাড়ের মানুষদের সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। মহাসড়কের লেমুয়া ব্রীজও ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথা জানান তারা।

এদিকে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, টঙ্গীর পাড় এলাকায় নদীর একটি বাঁক আছে। যার ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর বাঁকটি সোজা করা না হলে অথবা আপৎকালীন ব্লক বা খুঁটি বসিয়ে ভাঙন রোধ করা না গেলে লেমুয়া ব্রিজসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নদীর তীরবর্তী গোটা এলাকা ধসে পড়তে পারে।

তারা বলেন, নদীর বাঁকের কারণে এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার আগে ভাঙনের তীব্রতা কম ছিল। এখন দ্রুত সব ভেঙে নদীতে পড়ছে। অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লেমুয়া ব্রীজ এলাকায় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা এমরান পাটোয়ারীর সাথে। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় আমরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নদী ভাঙনের কারণে দিনের মধ্যে কয়েকটি পরিবার একে একে তাদের বাড়িঘর হারাচ্ছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে মসজিদ, রাস্তাঘাট। নদী ভাঙন রোধে দ্রুত প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আবু জাফর নামে লেমুয়ার আরেক বাসিন্দা বলেন, বাঁধগুলো সোজা করা না হলে এখানকার অন্তত ২০০ পরিবার ভিটেমাটি সব হারাবে। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বাড়িঘর, মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাট বাঁচাতে চাই। প্রশাসনের উচিত অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাতে সব হারানোর আগে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যায়।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, সেখানে ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করলে আমরা সে অনুযায়ী অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেব।