৬ দফা অভিযোগে ছাতকে প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি, ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ , ২৫ আগস্ট ২০২৪, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

দুর্নীতি অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ ৬ দফা অভিযোগে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবান ইউনিয়নের লাকেশ্বর পলিরগাঁও (এল.পি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্মরক লিপি প্রদান করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এলাকাবাসী।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি গ্রহন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজকে পর্যন্ত এ বিদ্যালয়কে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। বিগত কয়েকদিন যাবত তাঁর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করার ফলে তিনি স্কুল থেকে পলাতক।

তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়, বিগত ২০২০ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক, লাইব্রেরিয়ান, নৈশ্য প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াসহ মোট ৫টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ কার্যক্রম করেন এমনকি বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও এ নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না।

এছাড়া তিনি মাসে ৮-১০ দিন বিদ্যালয়ে আসেন, কিন্তু পুরো মাসের বেতন উপভোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে স্কুল ফান্ডের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন, অতিরিক্ত সেশন ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি এবং এস.এস.সি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জামানত বাবদ ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। শর্তস্বাপেক্ষে ফেরতযোগ্য হলেও আজ পর্যন্ত এ টাকা কেউ ফেরত পায়নি।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে বলা হয় শিক্ষক আশিকুর রহমান রাতের আঁধারে নিজের মতাদর্শের লোক নিয়ে কমিটি গঠন করে থাকেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলে স্বজনপ্রীতি এবং টাকা পয়সা ষুষ নিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করারও অভিযোগ করা হয় এ স্মারকলিপিতে।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাতক উপজেলার শিক্ষার্থী নেছার আহমেদ বলেন, প্রধান শিক্ষকের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমরাসহ পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। অনেক সময় আমরা প্রতিকার চেয়েও তার কোনো সুরাহা পাইনি।

কারণ, তার দলীয় বাহিনী দিয়ে তিনি আমাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি-ধামকি দিতেন। তাই জেলা প্রশাসক কাছে সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্মরকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও স্থানীয় মানুষের স্বাক্ষরিত দুটি স্মারকলিপি পেয়েছি, এগুলো আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।