সরকার পতন ষড়যন্ত্র মামলার আসামির বিরুদ্ধে ছাত্রহত্যার মামলা!

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ , ২০ আগস্ট ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো ঢাকার সাভারেও সরকার পতন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দেড় ডজন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি ও দলীয় অসংখ্য নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। আশুলিয়া থানায় তিন দিনের ব্যবধানে দায়েরকৃত এমন দুটি মামলায় সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও এক ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবার ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন আশুলিয়ায় ছাত্রহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে একই ব্যক্তিকে। থানায় দায়েরকৃত ওই মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী ছাড়াও আসামি মো. ইসরাফিল হোসেন নামে ওই ব্যক্তি।

ব্যবসায়ী ইসরাফিলের দাবি, আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে তাকেও হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও শত্রুতামূলক ভাবে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে মামলার আসামি করা হয়েছে। মূলত ব্যবসায়িক ফয়দা লুটতেই কোন পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যবসায়ী ইসরাফিল হোসেন (৩৯) আশুলিয়ার ভাদাইল মধ্যপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন দিলুর ছেলে। তিনি ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার একজন ঠিকাদার।

মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন গত ২৬ জুলাই আশুলিয়া থানায় সরকার পতন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পুলিশের কাজে বাঁধা, মারপিট, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়। ৪৭ নম্বর ওই মামলায় পাঁচ নম্বর আসামি করা হয় ব্যবসায়ী ইসরাফিলকে।

ওই মামলার বিএনপির ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খানসহ বিএনপির আরও ৪৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির বাদী আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল মোল্রা।

এর তিন দিন পর গত ২৯ জুলাই বিএনপির সাবেক এমপিসহ ৫৪ জন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় ব্যবসায়ী ইসরাফিলকে ছয় নম্বর আসামি করা হয়।

এঘটনার পর গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৭ আগস্ট ব্যবসায়ী ইসরাফিলের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় আবারও একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক দুই সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদকে প্রধান করে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যবসায়ী ইসরাফিল হোসেন বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে আমার বাবা একজন বৈধ ঠিকাদার হিসেবে ব্যবসা করতেন। এরপর আমি ছাত্রদলনেতা আইয়ুব খানের সাথে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি। তবে আমার কোন পদ-পদবী ছিলো না।

এরপর ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাকালে আমার ব্যবসা দখলের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মামলা দেয়া হয়েছিলো। বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ভাবে অন্তত আটটি মামলা দায়ের করা হয়। তখন হাজতবাসও করতে হয়েছিলো আমাকে।

তিনি আরও বলেন, এতো নির্যাতন সহ্য করার পর সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের সময় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আমি আওয়ামী লীগ সরকার পতনে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয় আশুলিয়া থানায়। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবু ও যুবদল নেতা আইয়ুব খান একই মামলার অন্যতম আসামি। অথচ গত ২৪ জুলাই আমি ব্যাংককে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

দেশে তখন আন্দোলন হচ্ছে এটুকু জানি আমি। পরে দেশে ফিরে শুনে ২৬ জুলাই আমার নামে একটি মামলা হইছে। এরপর ২৯ জুলাই আমি সিঙ্গাপুরে যাই। আগে থেকেই আমার ওই ভিসা করা ছিলো। ওইদিনেই তিনি জানতে পারেন আবারও একই অভিযোগে আশুলিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তখন ওসি সাহেবকে বিষয়টি জানালে, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

‘এরপর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন আমি সিঙ্গাপুরেই অবস্থান করছিলাম। এরপর মালয়েশিয়া থেকে গত ৭ আগস্ট দেশে ফিরে জানতে পারি, এবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে।

তার ‍বিরুদ্ধে একের পর মামলা দায়েরের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী ইসরাফিল বলেন, সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় আমিজানতে পারি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য এনামুল হক মুন্সী আমার ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছে।

ইপিজেডের কারখানায় গিয়ে আমি সেখানে ব্যবসা করতে পারব না, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এসব কর্তৃপক্ষকে জানায়। মূলত বিভিন্ন পক্ষ আমার ব্যবসা দখলের জন্যই ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বাদির  অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বয়ানে কোন ত্রুটি থাকে তবে বিশদ তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে