
শাহরিয়ার মিল্টন ,শেরপুর : শেরপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের মৃত নওশের আলীর বসত ঘরে টাকা চুরি করতে গিয়ে তার স্ত্রী নার্গিস বেগমকে হত্যা করে পালিয়ে যায় একই গ্রামের মাদকসেবী ও চোর আলিমুল ইসলাম (২২)।
পরে হত্যা মামলার একমাত্র পলাতক আসামী আলিমুল ইসলামকে বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনীয়া মডেল থানা এলাকা থেকে শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার সালেহ আবু নাঈম, এলআইসি এসআই মোহাম্মদ আশিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আলিমুল ইসলাম সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ সামিদুল হকের ছেলে এবং মৃত নার্গিস বেগম একই গ্রামের মৃত নওশের আলীর স্ত্রী।
এ ব্যাপারে শেরপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ খোরশেদ আলম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) এর সভাপতিত্বে লোমহর্ষক বিধবা নার্গিস বেগম হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তীতে হত্যার সাথে জড়িত আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মুখে বলেন, শেরপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত নওশের আলীর ছেলে মোঃ রাকিব হোসেন গত ২৭ জুন ব্র্যাক ব্যাংক শেরপুর শাখা থেকে নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তার বশত ঘরের ট্রাংকে রেখে দেয়।
এদিকে ওই বাড়িতে টাকা রাখার ঘটনাটি একই গ্রামের প্রতিবেশী সামিদুল হকের ছেলে মাদকসেবী ও চোর ে আলিমুল জানতে পারে ফাঁকা বাড়িতে বিধবা নার্গিস বেগম একা রয়েছেন। এসুযোগে সে ওই রাতেই টাকা চুরি করতে যায়।
এদিকে ঘরের দরজার তালা ভাঙ্গার শব্দ পেয়ে নার্গিস বেগম ঘুম থেকে জেগে উঠে। পরে সে টর্চের আলোতে চোর আলিমুলকে দেখে চিনে ফেলার পর সে নার্গিস বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। পরে তার ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মাদকসেবী ও চোর আলিমুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে আহত নার্গিস বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
এঘটনায় শেরপুর সদর থানায় গত ৩০ জুন আলিমুল ইসলামকে একমাত্র আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেইে আসামী আত্মগোপন করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা কালে শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার আবু সালেহ নাঈম, এলআইসি এসআই মোহাম্মদ আশিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনীয়া মডেল থানা এলাকা থেকে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার করে শেরপুর নিয়ে আসে।
আলিমুল পুলিশের কাছে এক স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে সে টাকা চুরি করতেই ওই বাড়িতে যায় এবং তাকে চিনে ফেলায় সে ছুরিকাঘাত করে নার্গিস বেগমকে হত্যা করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাইদুর রহমান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ এমদাদুল হক, ডিআইও-১ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...