নতুন অর্থবছরে রফতানিতে নগদ প্রণোদনা আরো কমালো সরকার

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ , ১ জুলাই ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে চূড়ান্তভাবে বের হওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে রফতানিমুখী ৪৩টি খাতে নগদ প্রণোদনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমদিন রফতানিতে নগদ প্রণোদনা আরো কমলো। এ নিয়ে ৫ মাসের ব্যবধানে প্রায় সব রফতানিতে নগদ সহায়তা দ্বিতীয়বারের মতো কমানো হলো।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিন সোমবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হচ্ছে এ প্রজ্ঞাপন, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সর্বাধিক প্রণোদনা পাওয়া তৈরি পোশাক খাতের প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিএস রফতানি প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে আড়াই (২ দশমিক ৫) শতাংশ।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। এজন্য বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কমলো প্রায় সব রফতানিতে নগদ সহায়তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ১ শতাংশ থেকে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়।

নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ তৈরি পোশাক খাতের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত নগদ সহায়তা হবে ৩ শতাংশ, যা আগে ছিল ৪ শতাংশ। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশে নামানো হয়েছে, যা এর আগে ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়।

বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্যে নগদ সহায়তা আরো কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে; আগে যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে এ সহায়তা করা হয়েছে ৫ শতাংশ; আগে যা ১২ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছিল। আর চামড়াজাত দ্রব্য রফতানিতে প্রণোদনার হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে; ফেব্রুয়ারির আগে যা ছিল ১৫ শতাংশ।

ওষুধের কাঁচামালে নগদ সহায়তা মিলবে ৫ শতাংশ; এর আগে যা ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়। শতভাগ হালাল মাংস রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হবে; এর আগে যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ হয়েছিল। কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু রফতানিতে সহায়তা আরো কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

হালকা প্রকৌশল রফতানিতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যা ১৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ করা হয়। এখন থেকে ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবে মোটরসাইকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য, রেজার ও রেজার ব্লেড, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক দ্রব্য ও হাতে তৈরি পণ্য। তবে সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যারে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সগদ সহায়তা ৬ শতাংশ করা হয়েছে; যদিও ফেব্রুয়ারির আগে ছিল ১০ শতাংশ।