‘গরমে রিকশার প্যাডেল মারতে জীবনটা যেন বাইর হইয়া যায়’

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ , ৩০ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে দাবদাহ। এই তপ্ত রোদ আর প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষেরা জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে গেলেও তাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই। পেটের দায়ে প্রতিদিন এ পরিস্থিতিতেও তাদের কাজ করে যেতে হচ্ছে।

বিশেষ করে রিকশা চালক, ভ্যান চালক ও ভাসমান দোকানিদের এই গরমে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শ্রমজীবীরা পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এই গরমে শত কষ্ট সহ্য করে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

চলমান দাবদাহে প্রতিদিন কাজ করে যাওয়া কয়েকজন শ্রমজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেটের দায়ে উত্তপ্ত আবহাওয়ায়ও তাদের রাস্তায় বের হতে হচ্ছে। তাদের করতে হচ্ছে সীমাহীন কষ্ট। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তাদের কষ্টের পরিমাণ এই গরমের কারণে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর জিরিয়ে ও শরবত খেয়েও তারা এই গরম থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না। তাই অনেকে গরমে না টিকতে পেরে বাসায় ফিরে যান। আর যারা কষ্ট করে কোনোমতে রাস্তায় রয়েছেন তাদের এই গরম থেকে বাঁচতে নানা উপায় করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি-৩২ নম্বর ও নিউমার্কেট এলাকায় শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তপ্ত রোদে শ্রমজীবীরা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে তাদের সারা শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। শরীরের ঘাম মুছে তারা আবারও নিজ কর্ম করে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সুযোগ বুঝে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন।

সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া জামাল হোসেন শরবত খেয়েও এই গরম থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না। তাই রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় ছায়ায় দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নিচ্ছেন।

জামাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ৭ গ্লাস শরবত খাইছি। প্রতি গ্লাসের দাম ১০ টাকা করে। এছাড়া কলা রুটি ও স্যালাইন খাইছি। গরমের কারণে এখন প্রতিদিন ১০০-১২০ টাকা বেশি খরচ হয়। আগে ৪০-৫০ টাকায় দিনের খরচ হয়ে যেত। বাংলামোটর থেকে নিউমার্কেট খ্যাপ নিয়ে আসছি। এখন মনে হচ্ছে শরীর আর চলতেছে না। এভাবে গরম চলতে থাকলে আর গরমে গাড়ি চালাইলে অসুস্থ হয়ে পড়তে হবে।

মো. সালাউদ্দিনের বাসা রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকায়। সকাল ১০টায় তিনি রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন। গরমে টিকতে না পেরে ৩ ঘণ্টা রিকশা চালিয়েই আজ বাসায় ফিরছিলেন। রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বর এলাকায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হইছি। কয়েকটা খ্যাপ মেরেছি মাত্র। এর মধ্যে গরমের কারণে কয়েক গ্লাস শরবত খাইছি। এই গরমে আর টিকতে পারছি না, প্যাডেল মারার শক্তি নাই। রোদে চামড়া পুইড়া যাইতাছে, তাই বাসায় যাইগা।

রাজধানীর বাংলামোটরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে নিজের রিকশায় বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন মো. লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, এই গরমে গাড়ি লইয়া বাইর হইয়া কোনো ফায়দা নাই। একদিকে গরমে শরীরের চামড়া পুড়ে যায়। আর অন্যদিকে যেই টাকা আয় হয় তা দিয়া শরবত খাইতে হয়। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক গ্লাস শরবত খাইছি। খ্যাপ মারছি তিন-চারটা আর এখন পর্যন্ত ৫০ টাকার শরবত খেয়ে ফেলেছি। সারাদিন আরও গাড়ি চালাইতে গেলে আরও ৫০ টাকার বেশি শরবত খাইতে হইবো। এত গরম জীবনে আর কখনো দেখিনি। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা শহরের রিকশা চালাইতে পারব না। এই গরমে রিকশার প্যাডেল মারতে জীবনটা যেন বাইর হইয়া যায়।