সম্প্রতি পুতুল নাচের জন্য নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া স্কুলটির ছাত্র ছিলাম আমি অধম। অর্ধেক জীবন পাড় করেছি বটে তবে শিশু মনে অন্তরীন সেই সব স্মৃতিরা আজও পুরোপুরি অমলিন।
মো. আজিজুর রহমান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সন্তান। বর্তমানে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জেলার দেড়শ বছর পুরোনো প্রাচীন বিদ্যাপীঠ অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও এই বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত গাজীউর রহমানের ছেলে।
সম্প্রতি কালীগঞ্জের ইউএনও আজিজুর রহমান নিজের ফেসবুকে শৈশবকালে জেলার সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনার সময় কাটানো নিজের স্মৃতি চারণ করেন।
তিনি লিখেছেন, সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেন স্কুলটি আমাদের সময়ে সেরাদের সেরা ছিল। কালের পরিক্রমায় এটির ব্যাপ্তি আরও ছড়িয়েছে। অধ্যক্ষ (আমাদের সময়ে কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষিকা) সালমা বারী ম্যাডামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, শামসুন্নাহার ম্যাডামের মায়ের মমতা, ব্রাদারের শাসন এসব কিছুই পরবর্তী ধাপের ভিত রচনা করে দেয়, যার উপর ভর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছি আজ অব্দি।

গত ১৫ জানুয়ারি সেন্ট জাভিয়ার’স নামক একটি মিশনারি স্কুলে বড় মেয়ের প্রথম ক্লাসের দিনে বাবা হিসেবে সাথে যাই। স্কুলে প্রবেশের পর খেয়াল করি, মেয়ের স্কুলের ইউনিফর্মটি অনেকটাই আমার শৈশবের স্কুলের মতো। একদিকে মেয়ের দ্রুতই বড় হয়ে যাওয়ার অনুভূতি অন্যদিকে লাল-সাদার মিশ্রণে স্মৃতিবিজড়িত ইউনিফর্ম—এই দুটি বিষয় মুহূর্তেই অতীতে ফিরিয়ে নেয়। সব বাচ্চারা যখন সুপরিচিত ইউনিফর্মে খেলাচ্ছলে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে লাগল, কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গেলাম সেই দিনগুলিতে। মায়ের সাথে মেয়েকে রেখে ফেরার সময় চোখের পানি আর সংবরণ করতে পারলাম না।
৯০ এর দশকের হিন্দি গান-কার্টুন ও বাংলা নাটকের সাথে এই স্কুলের স্মৃতিরা আঠার মতো গেঁথে গেছে চিরতরে। সায়মন, হেলাল, মুসাব্বির, আশফাক, শিপলু, ঝুমন, সানি, শিবলী, তপন, নাভিদসহ অনেক বন্ধুদের সাথে এখনও যোগাযোগ সুস্পষ্ট। রূপম, রাফি, সিজার, ইপু, মম, ন্যান্সি, নাহিয়ানদের সাথে যোগাযোগ নেই বটে তবে স্মৃতিতে অমলিন।
ভাইরাল না হলেও প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীই তার নিজস্ব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্মৃতিচারণ ও গর্ববোধ করবে, এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে প্রাসঙ্গিক বিধায় আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও গর্বের এই প্রতিষ্ঠানটির কথা একটুখানি শেয়ার করলাম। অবশ্য নাচটি ভাইরাল হওয়ার পর কর্মস্থলে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালীন বক্তব্যে কিছুটা শেয়ার করেছি। লিখার জন্য কয়েকদিন ধরেই অস্থিরতায় কাটাচ্ছিলাম, কিন্তু অবসর মেলেনি। পরিশেষে, যেটুকু সময় পেলাম তাতে এইটুকু না লিখে পারলাম না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত