মাদক ব্যবসায়ের প্রতিবাদ করায় হুমকি, আতঙ্কে সচেতন মহল

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ , ২৯ মার্চ ২০২৪, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সচেতনমহলসহ সুশীল সমাজকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী পক্ষের লোকজন ফেসবুকে এই হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকার সচেতন মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার ভারতীয় ১৯০ ভারতীয় ইয়াবা বড়িসহ বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ধোরানাল লক্ষীপুর গ্রামের মো. নাসিরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে বিজিবির সদস্যরা। এসময় বিজিবি সদস্যের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন পালিয়ে যায়। এঘটনায় ওই দিনই বিজয়নগর থানায় তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন উপজেলার বিজিবির লক্ষীপুর বিওপির হাবিলদার জাকারিয়া আকন্দ।

মামলায় বিজিবির সদস্যদের উপস্থিটি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়া ধোরানাল গ্রামের দুলাল খন্দকার (৪৫) ও সফিউল আলম খন্দকার ওরফে টিটুকে আসামী করা হয়। দুলাল খন্দকার সম্পর্কে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মােহাম্মদ আবুল কালামের আপন বড় ভাই।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ধোরানাল গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী নাসির, দুলাল ও সফিউল মাদকের একটি চালান পাচার করবে বলে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে সরাইল ২৫ বিজিবির আওতাধীন লক্ষীপুর বিওপির সদস্যরা। গত সোমবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ধোরানাল কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তার উপর মাদক বেচা-কেনার সময় উপজেলার লক্ষীপুর বিওপির হাবিলদার জাকারিয়া আকন্দের নেতৃত্বে বিজিবির সদস্যদের একটি দল অভিযান চালান।

বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে নাসির, দুলাল ও সফিউল ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ধাওয়া করে নাসিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিজিবির সদস্যরা। এসময় তল্লাশি চালিয়ে নাসিরের কাছে থেকে এটি পলিব্যাগে মোড়ানো ১৯০ ভারতীয় ইয়াবাবড়ি উদ্ধার করা হয়। এর বর্তমান বাজার মূল্য ৫৭ হাজার টাকা। জিজ্ঞাসাবাদে ভারতীয় ইয়াবাবড়িগুলো পলাতক আসামিদের সহযোগিতায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে নাসির।তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে নাসির জানিয়েছে।লক্ষীপুর বিওপির হাবিলদার জাকারিয়া আকন্দ বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ধোরানাল গ্রামের কয়েকজন সচেতন মানুষ বলেন, মাদক বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। তবে দুলাল খন্দকার এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এলাকার সবাই বিষয়টি জানেন। কিন্তু তার ভাই জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী প্রভাবশালী চক্রের কারণে কেউ সামনে এসে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। আমরা প্রতিবাদ করায় এখন তারা ফেসবুকে আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই এলাকা মাদকমুক্ত হোক।

তাদের সরবরাহ করা ফেসবুকের হুমকির কয়েকটি স্ক্রিনশট ঘেঁটে দেখা গেছে, তাপস খন্দকার নামের একটি ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়, ‘খেলার ইচ্ছা থাকলে বাড়িতে আসো খেলি। এই দিন দিন না আরো দিন আছে। ঠিক থাকবা নি তোমরা, রেডিনি। খেলা হবে কঠিন খেলা।’ সফিউল আলম খন্দকার নামের আরেকটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, ‘এই দিন দিন না আরো দিন আছে। ঠিক থাকবা নি তোমরা রেডি নি। খেলা হবে।’ তাপস খন্দকার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে।

একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় দুলাল খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে তার ভাই পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, পাশ্ববর্তী এক চাচাতো বোন যিনি সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং চাচাতো ভাই কর কমিশনার বিজিবির মাধ্যমে এসব করিয়েছেন।আমার ভাইকে পলাতক দেখিয়েছে। তবে আমার ভাই মাদক ব্যবসায়ী না।পারিবারিক বিরোধের জেরে এসব করছে তারা।

ফেসবুকে হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাপস আমার ছেলে। তারা উত্তেজিত হয়ে এমন করেছে। জানতে পেরে তার পোস্ট মুছি ফেলেছি। সবকিছু মিমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশাদুল ইসলাম  বলেন, আসামীরা পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।