গত এক সপ্তাহ ধরে পচনশীল পণ্য সন্ধ্যা ৬টার পর বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বেনাপোল কাষ্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। ফলে, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে নষ্ট হচ্ছে শত শত টন পচনশীল পণ্য।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল করিম জানান, বেনাপোল বন্দরে বুধবার (০৬মার্চ/২০২৪) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে ৮৭ ট্রাক ফল ও মাছ জাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি হয়েছে, তবে কাস্টমসের বিধি নিষেধের কারণে সন্ধ্যার পর পচনশীল কোনো পণ্য বন্দরে প্রবেশ করেনি।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আব্দুল হাকিম বলেন, রাতে এ জাতীয় পণ্য বন্দরে প্রবেশ করলে অনেকেই সন্দেহ করেন, স্কেল ওজনের সমস্যা আছে, রাজস্ব আদায়ের অনিয়ম আছে, রাতে নানা ধরনের অনিয়মেরও সুযোগ থাকে,এ ধরণের বিরুপ মন্তব্যের কারণে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৬ টার পর আমদানী কাঁচা পণ্য(পচনশীল পণ্য) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।
তিনি আরও বলেন,প্রতি বছর রমজান মাসকে সামনে রেখে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানিকারকরা বিভিন্ন রকমের ফল, মাছ, কেপসিকাম, আতা, টমেটো ইত্যাদি আমদানি করে থাকে। এ করে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে পচনশীল পণ্য আমদানি করে থাকে রাতের বেলায়।, তাই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ফল মাছসহ সব ধরনের উচ্চ পচনশীল পণ্য বন্দরে প্রবেশ করতে হবে।
বন্দর সংশ্লিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে,সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাসের। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক ট্রাকে পচনশীল পণ্য আমদানি হয়। ভারত থেকে এসব পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো সাধারণত বিকেলে বন্দরে প্রবেশ করে। অনেক সময় এসব ট্রাক প্রবেশ করতে রাত হয়ে যায়, কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাতে কোনো ফল ও মাছের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। সঠিক সিন্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আমদানিকারক রয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, "আমি ভারত থেকে ফল ও মাছ আমদানি করি। এই পণ্যগুলো সন্ধ্যার পরে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা কাস্টম কর্তৃপক্ষ দিতে পারে না। বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কথা, কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে সময় কমিয়ে আনা হয়েছে"।
বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি'র সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, "কাস্টমস এবং বন্দর মিলিয়েই এ রমজান মাসে সময় বৃদ্ধি করে রাত ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে উচ্চ পচনশীল পণ্য খালাস নিতে পারবো। এতে করে যেমন সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে, এসব পণ্য দ্রুত দেশের অভ্যন্তরে আনায়ণ করা সম্ভব হবে"।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত