পোশাক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ, শ্রমিকদের মারধরে আহত ৬

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ , ১১ মার্চ ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

আশুলিয়ায় ছুটির টাকা, টিফিনের টাকাসহ বিভিন্ন দাবীতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে স্টারলিং স্টাইলস লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকরা।

সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় স্টারলিং স্টাইলস লিমিটেড কারখানায় এই শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে সড়কে নেমে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ও ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় শিল্প পুলিশ সদস্যরা।

শ্রমিকরা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে শ্রমিকদের ছুটির টাকা পরিশোধ করে না। এছাড়াও টিফিনের টাকা বাড়িয়ে দেওয়া, বাৎসরিক ছুটিসহ আরও বেশ কিছু দাবি ছিলো শ্রমিকদের, যা নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত মালিকপক্ষের সাথে শ্রমিকদের ঝামেলা চলছিল।

কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী আশেপাশের অন্যান্য কারখানা যেভাবে পরিচালিত হয়, আমাদের এখানেও একইভাবে সব কিছু চলে। গত ৩ দিন যাবত আমাদের শ্রমিকরা অযৌক্তিক কিছু দাবি তুলে আন্দোলন করে আসছিল, যার মধ্যে রয়েছে বাৎসরিক ছুটি ১১ দিনের পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি ছুটিও প্রদান করা।

এছাড়া ঈদের সময় আমরা শ্রমিকদের ছুটি বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণত রোজার আগেই বিভিন্ন শুক্রবারে কাজ করিয়ে শ্রমিকদের সেই বাড়তি ছুটি এডজাস্ট করি। কিন্তু শ্রমিকরা এখন এসব দিনেরও টাকা দাবি করছে। এনিয়ে গত ৩/৪ দিন শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছিল।

তিনি বলেন, এসব ইস্যুতে গতকাল একদিন কারখানা বন্ধ রাখার পর আজ সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে ফ্লোরে না গিয়ে সরাসরি ডাইনিং রুমে গিয়ে তাদের দাবী মেনে নিয়ে ঘোষণা দিতে জোর করে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের অন্তত ৬ কর্মীকে মারধর করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যায়। মারধরের শিকার আহত স্টাফদের উদ্ধার করে পরে চিকিৎসার জন্য আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ করলে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাছের জনি বলেন, মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত না মেনে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে নেমে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে শিল্প পুলিশ সদস্যরা এক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ও ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, সমস্যা সমাধানে মালিকপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।