গর্ভের সন্তানকে মেনে নিচ্ছে না স্বামী, মামলা করায় হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ , ৪ মার্চ ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় স্ত্রীর গর্ভের সন্তানকে মেনে নিচ্ছে না স্বামী। এতে ভুক্তভোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তার পায়েল(৩০) স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করলে স্বামীর পক্ষের লোকজন তিনটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার সাতানী ইউনিয়নে নয়াকান্দি গ্রামের জিলু মিয়ার বাড়িতে। এ ঘটনায় স্বাপ্না আক্তারের ছোট ভাই শহিদুল্লাহ(২৮) বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পাশ্ববর্তী বারকাউনিয়া গ্রামের মামুন উর রশিদ, যুবরাজ মেম্বার, মতিউর রহমান ও মাহাবুবসহ একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রথমে বাদীর বাড়িতে হামলা করে পরে পরান হোসেন ও হারুন মেম্বারের বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করে লুটপাট করে।

এদিকে ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার বলেন, আমি আমার দুই বাচ্চা নিয়ে উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামের যুবরাজ মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। এসময় এই গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে মাহাবুব এর সাথে আমার পরকিয়া সম্পর্ক হয়। পরে একপর্যায়ে আমার প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে মাহাবুব এর সাথে আমার বিয়ে হয়।

এখন আমি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলে হঠাৎ করে মাহাবুব বলে গর্ভের সন্তান তার না এবং আমাকে রাখবে না।পরে এঘটনায় আমি কুমিল্লা আদালতে মামলা করলে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা পুলিশ সুপার আমাদের দুই পক্ষকে ডাকলে সেখানে আমার ভাইয়ের সাথে মাহাবুবের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

তারই জেরে আওয়ামী নেতা মামুন এর নেতৃত্বে বারকাউনিয়া গ্রামের লোকজন এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করেছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মামুন বলেন, আমরা কোনো বাড়ি ঘরে হামলা করিনি, আমরা গিয়েছি হারুন মেম্বারের নিকট বিচার দিতে। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে আমাদের নামে অভিযোগ দিয়েছে।

আমরা এঘটনার সঠিক তদন্ত চাই অভিযুক্ত মাহাবুব এর পিতা মতিউর রহমান বলেন, মেয়েটি আমার ছেলেকে ব্লাকমেইল করে প্রতারণার ফাদে ফেলে বিয়ে করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এবিষয়ে তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কাঞ্চন কান্তি দাস বলেন,এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।