• জাতীয় শীর্ষ সংবাদ
  • বেনাপোল চেকপোষ্টে এবার দুই বাংলার মানুষের “২১শে মিলন মেলা” হচ্ছে না

বেনাপোল চেকপোষ্টে এবার দুই বাংলার মানুষের “২১শে মিলন মেলা” হচ্ছে না

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

আগামীকাল মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারী,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনটিতে ভাষা শহীদদের আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলা ভাষা অর্জিত হয়। সেই সকল ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলার মানুষ একত্রিত হবে শহীদ স্তম্ভে অথবা শহীদ মিনারে “ফুল” দিতে ছুটে যাবে। ব্যাথা ভরা করুণ কন্ঠে সকলে গাইবে “আমার ভাই এর রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলতে পারি”।

জাতীয় এই দিবসটি যথাযথ ভাবে এবং মর্যাদার সাথে পালণ করবে জাতি। জাতীয় ভাবে প্রস্তুতী চলছে প্রশাসন মহলে,বসে নেয় ব্যাক্তি,সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,রাজনৈতিক,সামাজিক এবং শ্রমিক সংগঠন সমূহ।

যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামীকাল বুধবার দেশজুড়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় কর্মসূচির মধ্যে থাকবে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা। এছাড়া র‌্যালি, এক মিনিট নীরবতা পালন, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

বেনাপোল চেকপোস্টে এবছর  উদযাপন হচ্ছে না আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস “অমর একুশে”।প্রতিবছর বেনাপোল নো-ম্যান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদবেদীতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এর মধ্য দিয়ে “আন্তর্জাতক মাতৃভাষা দিবস” উদযাপন হতো। ভারত-বাংলাদেশের ভাষা প্রেমীরা বেনাপোষ্টের নো-ম্যান্সল্যান্ডে সকাল থেকে দলে দলে মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত। একে অন্যকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। সীমানা পেরিয়ে এ মিলন মেলায় দুই দেশের হাজার হাজার মানুষ যোগ দিত। চলতো সকাল থেকে ভাষা শহীদদের নিয়ে আলোচানা, কবিতা,গান নৃত্য। এ বছর ভাষা দিবসটি দুই বাংলার মানুষ এক হয়ে উদযাপন না হওয়ায় অনেকে মন্তব্য করেছেন তাহলে কি কালের পরিক্রমায় বিলুপ্তি হতে যাচ্ছে দুই বাংলার যৌথ আয়োজনে ভাষা দিবসটি।

খুলছে না সীমান্ত গেট। এবার যৌথ ভাবে একুশের কোন অনুষ্ঠান নো-ম্যান্সল্যান্ডে হবে না  কি কারনে, তার কোন সুদিনির্দিষ্ট কারন জানা যায়নি। তবে দুই দেশের মুষ্টিমেয় কিছু ভাষা প্রেমী মানুষ বেনাপোল পেট্রাপোল নো-ম্যান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পন করবেন বলে জানা গেছে।
২০০২ ইং সাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে অত্যান্ত জাকজমকপূর্ণ ভাবে বৃহৎ ২১শে মঞ্চ তৈরীর মাধ্যমে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” উদযাপিত হতো। তখন থেকেই বছরে একদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত গেট খুলে দেওয়ার প্রথা চালু হয়।

উল্লেখ্য,২০০২ইং সনের শুরু থেকে ভারতের সিপিএম এমপি অমিতাভ নন্দীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসা অনুষ্ঠানের পরবর্তী নিয়ন্ত্রণ নেয় ‘গঙ্গা-পদ্মা মৈত্রী সমিতি’। রাজ্যে পালাবদলের পরে আবার নিয়ন্ত্রণ যায় তৃণমূল প্রভাবিত ‘দুই বাংলা মৈত্রী সমিতি’র হাতে। যার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অপরদিকে, পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৮৫, যশোর-১ শার্শা আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন। প্রথম দিক থেকে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়ে আসলেও ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমপি শেখ আফিল উদ্দিন এবং সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন দ্বন্দ্বের কারণে এমপিকে বাদ দিয়ে মেয়র একাই অনুষ্ঠান করে আসছিলেন। পরে ২০১৯ ও ২০২০ সালে মেয়রকে বাদ রেখে এ অনুষ্ঠান পালণ করে আসছিলেন এমপি অনুসারীরা।

এ বছর ২১ উদযাপন না হওয়ায় স্থানীয়রা সহ দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নড়াইল জেলা থেকে ভারত গামী পাসপোর্টযাত্রী অমিতাভ সিংহ বলেন, প্রতিবছর ২১ ফেব্রয়ারী ভাষা দিবস উদযাপন করতে বেনাপোলে আসতাম। এবছর দিবসটি না হওয়ায় পাড়ি জমাচ্ছি ভারতে। সেখানে কয়েকটি স্থানে ভাষা দিবস উদযাপন হবে বলে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন।

এবারে বেনাপোল চেকপোষ্টে কেন হচ্ছে না ২১শে’র মিলন মেলা মঞ্চ জানতে বেনাপোল পৌর মেয়র মোঃ নাসির উদ্দিন এবং শার্শা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা-নয়ন কুমার রাজবংশী’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কারণে তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।