ঠান্ডার কারনে হামরা ঠিকমত জমিত কাম করবার পারিচ্ছিনা

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ , ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

খুব ঠান্ডা লাগিচ্ছে। ঠান্ডার কারনে হামরা ঠিকমত জমিত কাম করবার পারিচ্ছিনা। মাঝে মাঝে জমির ধারোত আগুন জ্বালা ঠান্ডা নিবারণ করিচ্ছি। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার দেউলা গ্রামের কৃষক রঞ্জিত সাহা। রাভভর বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। দিনব্যাপী কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সড়ক ও মাঠঘাট। সেই সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তরের জেলা নওগাঁয় এমন অবস্থা। প্রচণ্ড শীতে কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে সড়ক পথে চলাচল করছে যানবাহন। বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকরা। শীতের তীব্রতায় ইরি-বোরো আবাদসহ মানুষের অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হচ্ছে নানা পরামর্শ।

রাণীনগর উপজেলার দেউলা গ্রামের কৃষক রঞ্জিত সাহা বলেন, খুব ঠান্ডা লাগিচ্ছে। ঠান্ডার কারনে হামরা ঠিকমত জমিত কাম করবার পারিচ্চিনা। মাঝে মাঝে জমির ধারোত আগুন জ্বালা ঠান্ডা নিবারণ করিচ্ছি। ইরি-বোরো আবাদ এর জন্য ধান লাগানো কঠিণ হয়ে গেছে ঠান্ডার কারনে। তবুও অনেক কষ্ট হলেও কাম তো করা লাগবেই।

আত্রাই উপজেলার সোনাতলা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, খুব শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে জমিতে কজ করতে আমাদের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। গত ৭-৮দিন থেকে বেশি শীত পড়েছে। কাঁদাপানিতে নেমে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা হিম শীতল হয়ে যাচ্ছে। কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী মাঠে ধান রোপন এর কাজ করছেন জাহিদুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, রজজান হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক। এসময় কথা হলে তারা বলেন, শীত ও কুয়াশার কারনে জমিতে কাজ করা যাচ্ছেনা ঠিকমত। কিছুক্ষণ পর পর কাজ বন্ধ করে জমির ধারে এসে আগুন পোহাতে হচ্ছে। এমন শীত হলে আমাদের কাজ করা কঠিণ হয়ে যাবে। এর ফলে সঠিক সময়ে ধান রোপন করাও মুসকিল হয়ে যাবে।

গত কয়েকদিন থেকে এ লোয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। যার কারনে কারণে সারাদিন শীতের তীব্রতা বিরাজ করছে। দিন পেরিয়ে রাত এলেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটার মতো অঝরে ঝরছে কুয়াশা। তবে শুধু জীবন-জীবিকার তাগিদে হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হচ্ছেন গুটি কয়েক মানুষজন। প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশার মধ্যেই গায়ে শীতের কাপড় জড়িয়ে কাজের জন্য মাঠে ছুটছেন।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া খুবই নিম্নে অবস্থান করছে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকছে। ফলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আরও বেশ কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার তীব্রতা থাকবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবার জেলায় ১লাখ ৯১হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা র্নিধারণ করা হয়েছে। যেহেতেু এখন বোরো লাগানো শুরু হয়ে গেছে। বীজগুলোও রোপন যোগ্য হয়ে উঠেছে ফলে এখন আর শৈত্যপ্রবাহের কারনে বীজতলা নষ্ট হবার সম্ভবনা নেই। আর যাদের বীজ এখনো ছোট আছে আমরা তাদের পরামর্শ দিচ্ছি বিকেলে বীতলা ঢেকে রেখে সকলে বেলা বাড়ার সাথে সাথে খুলে দিতে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আমরা নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, গত পাঁচ-ছয়দিনে প্রচন্ড কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারনে আলুর পাতা গুলো কুকড়ে যাচ্ছে। এটাকে রেডব্লাইড বলা হয়। এটা প্রতিরোধে আমরা কৃষকদের ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে আসছি। এপর্যন্ত জেলায় শৈত্যপ্রবাহের ফলে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।