স্যার টাকা ছাড়া বই দিবেনা,তাই কাঁন্না করতে করতে বাড়ি চলে আসি

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ , ৩ জানুয়ারি ২০২৪, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি - কালের বিবর্তন

স্যার টাকা ছাড়া বই দিবেনা,তাই কাঁন্না করতে করতে বাড়ি এসে মাকে বলেছি স্যার বই দেইনি মা। স্যার টাকা দিয়ে যেতে বলেছে। এভাবেই অভিযোগ গুলো জানাচ্ছিলেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রাজিফা আকতার। বিদ্যালয় থেকে নতুন বই পেতে শিক্ষার্থীদের থেকে জনপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভর্তি ও পরীক্ষার ফরম বাবদের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্লিপ দিয়ে নেওয়া হচ্ছে এসব টাকা। সেই স্লিপ দেখিয়ে বই সংগ্রহের পর আবারো নিয়ে নেওয়া হয় স্লিপ।

তবে প্রথম দিন শির্ক্ষীরা বিনামূল্যে নতুন বই নিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। আবার নতুন বই পাওয়ার আশায় বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এতে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী। অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, বিষয়টি জানার পর ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা। তারা প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেন।

বই না পাওয়া বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রাজিফা আকতারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- বছরের প্রথম দিনে স্কুলে বই নিতে আসি। পরে স্যারকে বললে, স্যার টাকা ছাড়া বই দেওয়া যাবে না বলেন। তখন বড়িতে গিয়ে কাঁন্নাকাটি করে মাকে বলি টাকা ছাড়া বই দেয়নি। বই না পেয়ে অনেক খারাপ লাগছে। আমরা গরীব তাই হঠ্যাৎ এত টাকা মা দিতে পারেনি।

রাজিফার মা শাহিদা বেগম বলেন- বছরের প্রথম দিন শেখ হাসিনা বিনা মুল্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরন করার ঘোষনা দিয়েছেন। সেখানে আমার মেয়ে টাকা না দিতে পারায় বছরের প্রথম দিন বই না পেয়ে কাঁন্না করতে করতে বাড়িতে আসলে পরে তাকে টাকা দিয়ে বই নিয়ে দেওয়ার কথা বলি। আমি একজন অসহায় মানুষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। সেই সময় আমার কাছে টাকা না থাকায় মেয়েকে বই দেওয়া হয়নি। স্কুলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে বলি টাকা নেই এত বই দেন আমার মেয়েকে। তবুও তিনি বই দেয়নি। এটা কি ঠিক করেছেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকদের এমন মন-মানসিকতা থাকা কি ঠিক।

একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন বলেন, প্রথম দিন টাকা নিয়ে না আসায় বই দেওয়া হয়নি। তাই আবার বাড়ি গিয়ে ৮০০টাকা নিয়ে এসেছি নতুন বই নিতে এসেছি।

মেহেদী হাসান ও মো. বাধন নামের আরও দুই শিক্ষার্থী বলেন, নামে আরও দুই শিক্ষার্থী বলেন- প্রথম দিন বই নিতে আসলে স্যার জিজ্ঞাসা করে টাকা নিয়ে আসছি কিনা। পরে টাকা নিয়ে আসার কথা বললে একটা স্লিপ দেয়। সেই স্লিপ দিয়ে বই সংগ্রহ করি। পরে সেই স্লিপ আবারো ফেরত নেওয়া হয়।

হামিদুল হক নামের এক অভিভাবক বলেন, প্রথম দিন সন্তানের জন্য বই নিতে এসে দেখি ৮০০টাকা ছাড়া বই দেওয়া হচ্ছে না। তখন আমি তাদেরকে বলি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রথম দিনে টাকা ছাড়াই বই দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু টাকার সাথে বইয়ের সম্পর্ক কি? তখন তারা সেশন ফির জন্য টাকা নেওয়ার কথা জানান। নতুন বই নিয়ে নিয়ে ছেলে-মেয়েরা আনন্দ করতে করতে বাড়ি যাবে। কিন্তু এখানে তার উল্টো হয়েছে। শিক্ষকদের কাছে থেকে এমনটা আশা করা যায়।

আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার মেয়ে প্রথম দিন বই নিতে আসলে টাকার জন্য তাকে বই দেওয়া হয়নি। পড়ে বাড়িতে গিয়ে কান্না করতে করতে বলে টাকার জন্য বই দেয়নি। তিনি বলেন-টাকার জন্য বই দেওয়া হয়নি এইটা ঠিক না। কারন প্রথম দিনে বই পেলে সন্তানদের পড়াশোনার ওপর আগ্রহ থাকে। কিন্তু বই না পেয়ে তাদের আগ্রহ কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

অভিযোগগুলোরে বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম শাহ জানতে চাইলে তিনি কোন চুপ ছিলেন। কোন উত্তর দেয়নি।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অসিত চন্দ বলেন- টাকার বিনিময়ে বই দেওয়ার নিয়ম নাই। এটা ঠিক নয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। টাকার দিয়ে বই দেওয়া হয়েছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখবো। আর যারা বই পাইনি তাদের কাছে বই পৌঁছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন- সবাইকে বিনামূল্যে বই দিতে হবে। এমন দির্নেশনা দিয়েছেন সরকার। কোনো শিক্ষক টাকার জন্য শিক্ষার্থীকে নতুন বই না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনি যেহেতু বলেছেন যে টাকার বিনিময়ে বই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া হয়নি। আমি সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।