চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ৯ ইউপি সদস্যের অনাস্থা

প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ , ১ ডিসেম্বর ২০২৩, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু ছায়েদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশি শক্তির দাপট, ভিজিএফ ও ভিজিডির মাল আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৯ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন মহিলা কাউন্সিলর নাসরিন আক্তার। অভিযোগ পত্র সমর্থন দিয়েন স্বাক্ষর করেন ৪-৫-৬ নং ওয়ার্ডের তাকমিনা আক্তার, ২নং ওয়ার্ডের আল কাইয়ুম, ৪নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ শাহীন, ৫নং ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন, ৬নং ওয়ার্ডের রুবেল মিয়া, ৭নং ওয়ার্ডের আবদুল হাই, ৯নং ওয়ার্ডের মোঃ মনির হোসেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরের ১% এর টাকা নিজে উত্তোলন করিয়া আত্মসাৎ করে জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া  ৩০০০০০ ( তিন লক্ষ টাকা) আত্মসাৎ করে টিআরকাবিখার টাকা কাজ না করিয়া আত্মসাৎ করে ফেলে। সরকারের কৃষি প্রণোধনা সার এবং বীজ কৃষকের মাঝে বিতরণ না করে নিজেই হনন করে। গ্যাস ফিল্ড হইতে প্রাপ্ত ট্যাক্সের ৪,১০,০০০/- (চার লক্ষ দশ হাজার) টাকার মধ্যে ১,১০,০০০/- (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা কাজ না করে অবশিষ্ট বাকী টাকা নিজেই আত্মসাৎ করে ফেলে। ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ এলাকার জনগণ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে সম্পূর্ণ টাকা জমা না রেখে বেশির ভাগ অংশ টাকা আত্মসাৎ করে খুবই অল্প পরিমাণ টাকা জমা দেয়।

এছাড়া উল্লেখ আছে, এলাকার অসহায়- হত দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধন আবেদন, সংশোধন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বাবদ বিভিন্ন অসুবিধা জটিলতা দেখিয়ে দুই হাজার, তিন হাজার, পাঁচ হাজার টাকা নিয়া জনগনের কাজ করে দেয় এমনকি চাহিদা মত টাকা না পাইলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করে জনগনকে হয়রানি করে। | চেয়ারম্যান আবু ছায়েদ নিজ ইচ্ছায় অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন করার লক্ষ্যে ডালিম নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অনুদান যেমন প্রেগনেন্সি ভাতা, কৃষি প্রণোদনা, সার, বীজ, ধান বীজ, সরিষাসহ সরকারি টিউবওয়েল, টি.সি.বি পণ্য ইত্যাদি বিক্রি করে উক্ত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের যোগসাজসে টাকা উপার্জন করে ।

এ ব্যাপরে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য নাসরিন আক্তার মুঠোফোনে বলেন, চেয়ারম্যান আবু ছায়েদ নির্বাচিত হওয়ার পর নাটাই উত্তর ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট ও কাজে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে গেছেন। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা সকল ইউপি সদস্যরা চেযারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ট হয়ে আছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে চেয়ারম্যান আবু ছায়েদ বলেন, আমার বিরুদ্দে আনিত অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউপি সদস্যরা অহেতুক কারণে এমন করছে৷ আগামীকাল (শনিবার) ইউপি সদস্যদের নিয়ে এক বৈঠকে বিষয়টি সমাধান করা হবে।