• ছবিঘর ফিচার
  • কমলগঞ্জের বনবিটে অবমুক্ত করা হল বিপন্নপ্রায় বনছাগলটি

কমলগঞ্জের বনবিটে অবমুক্ত করা হল বিপন্নপ্রায় বনছাগলটি

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ , ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় আটক বিপন্নপ্রায় বনছাগলটির মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার রাতে কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনে অবমুক্ত করা হল বিপন্নপ্রায় বনছাগলটি। গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলার শক্তিয়ারখলা বনবিটের ঢুলারা বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় থেকে এটা আটক করা হয়। পরে সেখানকার বন কর্মকর্তারা এটিকে ট্রাকযোগে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে রাতে পাঠায়।

সেখান থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়। পরে নির্ধারীত সময়ে এটাকে অবমুক্ত করা হয়।

বনবিভাগ জানায়, এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন বন বা ঝর্ণা অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকায় দেখা মিলতো বনছাগলের। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রাণীটি খুব একটা চোখে পড়ে না। এটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত রেড সেরো বা বনছাগল। ২০১৫ সালের আইইউসিএনের মূল্যায়ন অনুযায়ী সেরো বাংলাদেশে বিপন্নপ্রায় ও বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন প্রাণী।

মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, অতি বিপন্নপ্রায় বনছাগল বা রেড সেরোটি উদ্ধারের পর তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা হয়। বুধবার রাতে প্রাণীটিকে কমলগঞ্জের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী বন সংরক্ষক (ওয়াইল্ড লাইফ) জামিল মোহাম্মদ খান, জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট তাজুল ইসলাম, সুব্রত সরকার, সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য চার্লেস শুভ ও নুরুল হক, স্ট্যান্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ (সিউ) টিমের সোহেল শ্যাম, খোকন থৌনাউজাম, কাজল হাজরা প্রমুখ।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার বলেন,‘উদ্ধারের পর সেরো বা বনছাগলটি সবাই হরিণের বাচ্চা হিসেবে ধারণা করেছিলেন। পরে তারা পরীক্ষা ও বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন এটি ‘রেড সেরো’ বা বনছাগল। তিনি বলেন, বাসস্থানের সংকট ও অবৈধ শিকারের কারণে এ প্রজাতির বনছাগলের অস্তিত্ব বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে। বুধবার রাতে বনছাগলটি কমলগঞ্জের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘ছাগলটি লম্বায় ৪ ফুট ও উচ্চতায় সাড়ে ৩ ফুট ছিল। স্থানীয় ও বন বিভাগের লোকাদের সহযোগীতায় প্রাণীটা তার বনে ফিরে গেলো। তা না হলে হয়তো কোনো শিকারীর কাছে ধরা পড়লে তার প্রান চলে যেত।’