যেই রাস্তার উন্নয়ন শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ , ১৩ নভেম্বর ২০২৩, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ভারত সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ঘেরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খলচান্দা কোচ আদিবাসী পল্লী যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশার কারনে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার জনগণ। তাই বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ সমাপ্তির লক্ষ্যে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারমারী খ্রিস্টান মিশন মোড় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে আন্ধারুপাড়া মৌজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত পাহাড়ি গোপে খলচান্দা গ্রামে বাস করে ৬৫টি পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ। পাশের আশ্রয় কেন্দ্রের গুচ্ছগ্রামে বাস করে ৩৫ পরিবারের ২ শতাধিক মানুষ। একই রাস্তার আন্ধারুপাড়া গ্রামে বাস করে ৪০ পরিবারের ৩ শতাধিক মানুষ। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই প্রায় সহস্রাধিক মানুষ চলাচল করে।

এদিকে গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে ও নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে পাশের বারমারী বাজারে যাতায়াত করেন। কোচপল্লীর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করার জন্য স্কুলে যায়। এছাড়া সম্প্রতি খলচান্দা গ্রামে বর্ডার হাট স্থাপনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে বালুভর্তি ট্রাক, লড়ি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ প্রতিদিন শতশত যানবাহন চালাচল করে। এসব ট্রাক, লড়ি অনেক সময় রাস্তার অবস্থা বিপদজনক থাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যায়।

পাহাড়ি ওই কাঁচা সড়কে শুকনো মৌসুমে বালু ও বর্ষা মৌসুমে কাঁদাপানি জমে থাকে। এতে যাতায়াতে কষ্ট পোহাতে হয় এলাকার বেশিরভাগ মানুষদের। বর্তমানে কোচপল্লী যাওয়ার প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক এখন খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাই বর্ডার হাট স্থাপনের আগে ওই সড়ক পাকা না করা হলে চলাচলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে জানান এলাকাবাসী।

খলচান্দা গ্রামের কোচ আদিবাসী শ্রী রমেশ কোচ, পরিমল কোচ, অনিল কোচ, চন্ডী কোচ জানান, খলচান্দা আন্ধারুপাড়া থেকে চলাচলের একমাত্র রাস্তা দিয়ে পাশের চেল্লাখালী নদী থেকে উত্তোলিত অধিক ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল করায় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে শুকনো মৌসুমে বালু ও বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট গর্তে পানি জমে থাকে।

এসময় যানবাহন রেখে পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। তারা আরো জানান এই গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী নারীদের বেহাল রাস্তার কারনে দ্রুত হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না । তাই ওই দুই কিলোমিটার রাস্তা দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, খলচান্দা কোচপল্লী যাওয়ার রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই দ্রুত কাজ করা সম্ভব হবে।