গুড় খাওয়া নিয়ে বাজি

ফুড পয়জনিং’র প্রভাবেই মারা যায় বায়েজিদ

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ , ১ নভেম্বর ২০২৩, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

নওগাঁর বদলগাছীতে বাজি ধরে ২ কেজি গুড় ও কলা খেয়ে মো বায়োজিদ (৪৫) নামে এক কৃষকের খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) প্রভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত বায়েজিদ উপজেলার পাড়-আধাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। স্থানীয়রা বলছেন অতিরিক্ত গুড় খাওয়ার কারনে রায়েজিদ মারা গেছেন।

তবে চিকিৎসক বলছেন খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) এর কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত বায়েজিদকে বুধবার বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকেপাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভা-ারপুর বাজারে পাড়-আধাইপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলের সাথে ইসমাইলপুর গ্রামের লবার ছেলে বিতু কসাই এর মধ্য গুড় খাওয়া নিয়ে বাজি হয়। বাজি অনুযায়ী বিতু কসাই স্থানীয় এক দোকানির কাছ থেকে ২কেজি দানার গুড় কিনে এনে কৃষক বায়জিদকে খেতে দেয়। বাজিতে দুই কেজি গুড় বায়জিদ খেতে পারলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও দুই কেজি গুড় কিনে দিবে বিতু কসাই। দুজনের কথা অনুযায়ী গুড় খাওয়ার বাজি খেলা শুরু হয়।আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কেজি গুড় খেয়ে ফেলে বায়েজিদ এবং গুড়ের সাথে ২০টির অধিক কাচা মরিচ খেয়ে ফেলেন । বাজি ধরার পূর্বে বেশ কয়েকটি ২হালি কলাও খেয়ে ছিলেন তিনি। অপর দিকে বাজিতে জয়ের পর আরও দুই কেজি গুড় দেওয়ার কথা থাকলেও বিতু কসাই তা না দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় । এসময় গুড় খাওয়ার বাজি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমাই সেখানে। বাজি ধরে গুড় খাওয়ার পর স্থানীয়রা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্ক জানতে চায় এবং তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন কিন্তু তিনি তার তার শরীরের অবস্থা ভালো বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাজি শেষে স্বাভাবিক অবস্থায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ অনুভব করলে পরিবারের লোকজন সাড়ে ১১টার দিকে আক্কেলপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় রিপন হোসেন, বাবু হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, বায়েজিদ ইতিপূর্বেও বিভিন্ন জনের সাথে খাবার খাওয়া নিয়ে নানা সময়ে বাজি ধরে বাজিতে জিতেছে। মঙ্গলবার রাতে ভা-ারপুর বাজারে বিতু কসাইয়ের খুব বেশি জোড়াজুড়িতে তার সাথে এক পর্যায়ে গুড় খাওয়ার বাজিতে রাজি হয় বায়জিদ। বাজিধরে খাবার খাওয়া এটাই যে, শেষ খাবার! জানলে হয়তো বায়োজিদ বাজিধরে ২ কেজি গুর ২ হালি কলা কখনোই খেতেননা। অতিরিক্তি খাওয়ার কারনেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারনা।

বুধবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদ গ্রামের বাড়িতে তার মৃতদেহ এক পলক দেখতে হাজারও লোক ভিড় জমিয়েছে। নিহত বায়েজিদ এর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতন। আসর নামাজের পর তার তাকে দাফন করা হয়। কথা হয় বাড়িতে অবস্থান করা একাধিক নারীর সাথে। তারাও জানালেন তার বাজির অভ্যাসের ব্যাপারে। তবে তার মৃত্যুর পর বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে বলে জানালেন স্থানীয় একাধিক নারী।

কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো শাহীনুর ইসলাম স্বপন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সে বিভিন্ন সময় বাজি ধরে এসব করতেন।

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আসিফ আদনান বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) প্রভাবে মৃত্যু হয়েছে বায়েজিদের। তবে ২থেকে কেজি গুড় খেলে স্বাভাবিকভাকে কারো এমনটা হওয়ার কথা নয়। গুড়ের সাথে কলাসহ আরও কিছু খেয়েছিল খাবারও মান সম্মত ছিলনা। কারন গুড়ে ক্ষতিকারক উপাদান ছিল হয়তো। বেশ কয়েকবার বুৃমি হয়েছিল। আবার খাবারগুলো লান্সে চলে যাওয়ার কারনে সে মারাত্বকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাঁধার সৃষ্টি হয়েছিল। আরও আগে আমাদের কাছে নিয়ে আসা হলে হয়তো আমরা সর্বচ্চো চেষ্টা করতাম তাকে সুস্থ্য করে তুলতে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ করে তবে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মো.সবুজ হোসেন
নওগাঁ
০১.১১.২৩