নওগাঁর দুবলহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস

জেলা প্রশাসন দিলেন স্থগিতাদেশ, অমান্য করে জমি খারিজ করলেন ভূমি কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ , ১৩ নভেম্বর ২০২৩, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

নওগাঁয় জেলা প্রশাসনের  স্থগিত  আদেশ অমান্য করে জমি খারিজ করার অভিযোগ উঠেছে দুবলহাটি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার আওতাধীন দুবলহাটি-শৈলগাছী-শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে চকপ্রসাদ মৌজায় ২ একর ৭৩শতক জমির খারিজ আবেদন করেন রেনুকা বানু। সেই জমি নিয়ে বিবাদ চলছিলো। জমির মালিকানা দাবী করেন এমদাদুল হক বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি। তিনি বাদী হয়ে জমি খারিজ স্থগিত আদেশ চেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব ), নওগাঁ আদালতে মামলা করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ই অক্টোবর জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে একটি স্থগিত নোটিশ জারি করা হয়। ঐ নোটিশে দেখা গেছে ১৫ই অক্টোবর সই করে সংশিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায়।

নোটিশ জারির ঠিক তিন দিন পর ১৮ তারিখে খারিজের আবেদন করেন দুবলহাটি ভূমি ইউনিয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রস্তাবক হয়ে জমি খারিজের আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর সেই খারিজ অনুমোদন করেন সাবেক এসিল্যান্ড রফিকুল ইসলাম।

দুবলহাটি ভ‚মি ইউনিয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৫তারিখ নোটিশ জারি হলেও আমার কাছে সেটি পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। ফলে আমি সেই খারিজ করে দিয়েছি। এখানে আমার কোন দোষ নেই এটা জেলা প্রশাসনের ত্রুটি। তারা এরকম একটি জরুরি বিষয় কেন আমাকে মেসেঞ্জার করল না। ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোর ফলে সময় মত এসে পৌঁছায়নি। ডাকযোগে নোটিশটা পাঠানো তাদের উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

বাদী এমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, জমি নিয়ে বিবাদ চলছে। যার কারনে বাদী হয়ে মামলা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের স্থগিত আদেশ অমান্য করে জমি কিভাবে খারিজ করা হলো বুঝলামনা। আইন অমান্য করা হয়েছে। জড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

নওগাঁ সদর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থগিত আদেশ থাকার পরেও কেন ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রস্তাব দিলো, সেটা তার ভুল। তার ভুলের কারনে এমনটা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাবো এটি সংশোধন যেন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, স্থগিত আদেশ দেবার পরেও সেই জমি কিভাবে খারিজ হয়। যদি কেউ নোটিশ অমান্য করে খারিজ করে থাকে বা কারো গাফিলতির কারনে এমনটা হয়ে থাকে তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করবো।