• ছবিঘর ফিচার
  • ইউটিউবারের উদ্যোগে খাসিয়াপুঞ্জিতে বিদ্যালয়

ইউটিউবারের উদ্যোগে খাসিয়াপুঞ্জিতে বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ , ৯ নভেম্বর ২০২৩, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির শিশুদের জন্য একজন ইউটিউবারের উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অতিথিদের নিয়ে স্কুলটি উদ্বোধন করা হয়। এর আগে খাসিয়াপুঞ্জির শিশুদের পড়াশোনার দুর্ভোগের কথা সম্প্রতি ভিডিওতে প্রকাশ করে ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল ইনফো হান্টার (Info Hunter)তাদের ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রচার করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচারের পর ওই ভিডিও দেখে দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন জার্মান, লন্ডন, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪ জন ব্যক্তি। তাদের সহায়তায় লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে। ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হয় এই স্কুল। ২ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হবে স্কুলটি। ১ জন খাসিয়া ভাষা ও ১ জন বাংলা ভাষায় পাঠদান করাবেন শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনফো হান্টারের প্রতিষ্ঠাতা সাকিবুর রহমান, ব্যবসায়ী সৈয়দ ইশতিয়াক বাবেল, আসাদুর রহমান, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফিলা পতমী, প্রচার সম্পাদক সাজু মার্ছিয়াং প্রমুখ।

স্থানীয় খাসি অভিভাবক সাজু মার্ছিয়াং জানান, অনেকদূর বাচ্চাদের নিয়ে পড়াশোনা করনো আমাদের জন্য সমস্যা ছিল।আমরা একদিন নিয়ে গেলে বাকি ৫ দিন নিয়ে যেতে পারতাম না। টাকাপয়সা ও দূরবর্তী থাকায় এইসমস্যা ছিল। সাম্রতি ইনফো হান্টার চ্যানেলের প্রতিষ্টাতা সাকিবুর রহমান ভাই আমাদের স্কুলের সমস্যা নিয়ে ফেইচবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করান। এত করে অনেক ভাই আমাদের সমস্যা বুঝতে পারেন। সাকিবুর ভাইয়ের কারণে আজ আমরা স্কুলটি পেলেম। আমাদের কষ্টের অবসান ঘটলো।


নব নির্মিত এই স্কুলের শিক্ষক সামসুন্নাহার ও এলটি জানান, ‘এখানে বেসরকারী স্কুলটি হওয়ার পর আমাদের নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় খাসিয়া পুঞ্জির নেতৃবেৃন্দরা। আমরা দুজন শিক্ষক পাঠদান করাবো। একজন বাংলা ও একজন খাসি ভাষার উপড় ক্লাস নিব।’

এ বিষয়ে ইনফো হান্টারের প্রতিষ্ঠাতা সাকিবুর রহমান বলেন, ‘আমি যখন আমার ইউটিউব ও পেজে এটা আপলোড দিই, তখন লাখ লাখ মানুষ দেখে। তাদের দীর্ঘদিনের ১টা প্রাথমিক স্কুলে। পরে ভাবলাম একটা স্কুলের ব্যবস্থা করে দেব। আমার ভিডিও দেখে অনেকে সাড়া দেন। এর মধ্যে ৪জনের সহযোগীতায় আমি স্কুলের ব্যবস্থা করে দেই। তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কিছুটা হলেও অবসান ঘটলো্। স্কুলটা করতে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা লেগেছে। সব টাকাই বিদেশী ৪ জন বন্ধুর মাধ্যমে পাই। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পুঞ্জিগুলোকে এভাবে সহযোগিতা করব। আমার মানবিক ভাইদের সহযোগিতায় এই কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে করে যাব।

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফিলা পতমী বলেন, ‘স্কুলের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনেকবার গিয়েছি কেউ পাত্তা দেয়নি। আজ সাকিবুর ভাইয়ের মাধ্যমে আমাদের বাচ্চারা স্কুল পেয়েছে উনাকে খাসিয়া পুঞ্জির সবার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’