একদিন ফুটবল ফেডারেশনের দূর্নীতির দূর করতে সক্ষম হবো বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার সুমন। শনিবার বিকেলে নবীনগর উপজেলা লাউর ফতেহপুর গ্রামে ব্যারিস্টার সুমন একাডেমি বনাম ব্যারিস্টার জাকির হোসেন একাদশের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বিকেলে অনুষ্ঠিত এই খেলায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লাখদর্শক উপস্থিত হয়েছে। আর এই দর্শকপূর্ন ফুটবল প্রেমীদের উপস্থিতির কারণ ব্যারিস্টার সুমন।

খেলা শুরু হওয়ার আগে পুরো মাঠে ঘুরে বেড়ান ব্যারিস্টার সুমন । দূরদূরান্ত থেকে ব্যারিস্টার সুমন এর খেলা দেখতে আসা দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানান।
সৌদিআরব প্রবাসী নজরুল ইসলাম নজুর সভাপতিত্বে খেলাটি উদ্বোধন করেন গনপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমেদ ভূঁইয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহিদুল হারুন, পায়রা সমুদ্রবন্দর উপসচিব আতিকুল ইসলাম, নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, ওসি মাহাবুব আলম, অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক মিয়া মোঃ শিপন, সিনিয়র সাংবাদিক এম কে জসিম উদ্দিন, গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু প্রমুখ।

খেলা দেখতে এসেছেন শিহাব মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবক। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যারিস্টার সুমনের অনেক কার্যক্রম দেখেছি। আজ মূলত সরাসরি তাকে দেখার জন্যই মাঠে এসেছি।
থানাকান্দি গ্রাম থেকে আসা তরুণ শিতাব (১৯) বলেন, ছোটবেলায় আমাদের মাঠে এই বর্ষার সময়ে অনেক বড় বড় ফুটবল খেলার আয়োজন হতো। এখন আর তেমনটা হয় না। সরাসরি এতবড় আয়োজনে ফুটবল খেলা অনেক বছর পর দেখলাম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, এতো দর্শক উপস্থিতিই প্রমাণ করে ফুটবল খেলা এদেশে এখনো কত জনপ্রিয়। মাদক থেকে তরুণ ও যুব সমাজকে দূরে রাখতে এসব আয়োজন ভূমিকা রাখে। এজন্য এসব আয়োজন করতে আমাদের সমাজের কর্তাদের ভাবতে হবে।
খেলা শুরু হয় বিকাল ৪ টায়। লাউরফতেহপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধে কারো পক্ষে কোনো গোল হয়নি। এতে টান টান উত্তেজনা ছিলো খেলাটিতে। রেফারির বাঁশি বাজার ১ মিনিট পূর্বে ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির জালে বল ঢুকিয়ে দেয় ব্যারিস্টার জাকির হোসেন একাদশ। গোলে যেনো পুরো মাঠ কেঁপে উঠে দর্শকদের উল্লাসে। দীর্ঘ সময় গোল না হওয়ায় শেষ মুহুর্তের গোলটি যেনো দর্শকদের মনে আনন্দ এনে দিয়েছে। খেলার সমাপ্তি ঘটে ১-০ গোলে। পরাজিত হয় ব্যারিস্টার সুমন একাদশ।
পরে খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণীতে দর্শকদের উদ্দশ্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, নবীনগর পীরের এলাকা। পীরের মাইর শেষ রাতে। শেষ মিনিটে গোল দিয়ে নবীনগরের জাকির হোসেন জয় লাভ করেছে। গোলটি যে দিয়েছে সাইজে তেমন বড় না, কিন্তু যে গোল রক্ষক ছিলো সে বিশাল দেহের অধিকারী। কিন্তু নবীনগরের ছোট ছেলেটি কিন্তু হবিগঞ্জের বিশাল দেহের খেলোয়াড়কে দেখে ভয় পায় নি। নির্ভয়ে জালে বল ঢুকিয়ে দিয়েছে। এর মানে বড় দেখেই ভয় পেতে হবে বিষয়টি এমন না। নবীনগরের ছেলেদের দেখলেই পুরো বাংলাদেশ সস্মান করবে।
তিনি আরো বলেন, ভক্ত ও ফুটবল প্রেমীদের দোয়া থাকলে ফুটবল ফেডারেশনের দূর্নীতির দূর করতে সক্ষম হব। এছাড়া যুব সমাজ দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মাদক থেকে দূরে এসে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়তে সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত