শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ফরিদা হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাসিঁ॥ ১ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লায় ফরিদা বেগম (৬২) হত্যা মামলায় তিন যুবককে ফাসিঁ ও আরো একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিনমাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো: তৌফিক আজিজ ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হচ্ছে শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার যুগেন বিশ্বাসের ছেলে লিটন বিশ্বাস, মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, রফিক মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন হচ্ছে ওই এলাকার আ: ছালামের ছেলে আলাল উদ্দিন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি এ্যাডভোকেট নরেশ চন্দ্র দে জানান, বিগত ২০১৯ সালের ২১ আগষ্ট শেরপুর শহরের পশ্চিম গৌরীপুর মহল্লার মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী ফরিদাকে বাসায় রেখে ব্যবসায়িক ও পেশাগত কাজে চলে যায় তার পুত্র ও পুত্রবধুরা। রাতে বাসায় এসে তারা দেখে ফরিদা বেগমকে দুর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যার পর ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় ফরিদা বেগমের ছেলে সুমন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

এরপর ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সন্দেহভাজন আসামি জাহাঙ্গীর ও লিটনকে গ্রেফতার করে। তারা ২০২০ সালের ২৯ আগস্ট আদালতে বৃদ্ধা ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী শামীম ও আলালকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ওই ৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ। পরে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদী, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত পিপি এডভোকেট নরেশ চন্দ্র বলেন বাদী পক্ষ এ রায় পেয়ে খুশি।