নরসিংদীতে মরুভূমির ফল “সাম্মাম” চাষ করে সফল আসিফ

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

দেখতে অনেকটা বেল কিংবা তরমুজের মতো। এই ফলটি সাম্মাম বা রকমেলন হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে এই ফলটির চাষাবাদ হয়ে থাকে। বিশেষ করে মরুভূমির দেশগুলোতে এর ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। আর এই প্রথম নরসিংদীতে বাণিজ্যিক ভাবে সাম্মাম ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আসিফ নামে পুলিশের এক সদস্য।

নরসিংদীর পাঁচদোনার নেহাব গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে মালচিং প্রদ্ধতিত্বে প্রথম বারের মতো সাম্মাম ফল চাষ শুরু করেন তিনি। এতে খুব অল্প দিনের ব্যবধানেই ব্যাপক সফলতার মুখ দেখেছেন ওই পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি তার এই সাফল্যের চিত্র দেখতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারও মানুষ গিয়ে ভিড় করছে ওই বাগানে। সাম্মাম ফল চাষ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলেও মনে করছেন এই উদ্যোক্তা। এতে নতুন করে আশা বুনছেন বেকার অনেক যুবকরা।

আশরাফুল ইসলাম আসিফ জানান, গত চার মাস আগে ইউটিউব দেখে শখের বসে সাম্মামের বিজ সংগ্রহ করে তা রোপণ করেন তিনি। পরে সেই বিজ থেকে এক হাজার চারা তৈরি হয়। আর এসব চারা দ্রæত বড় হয়ে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানে প্রতিটি গাছেই ফলন ধরেছে। এক একটি ফলের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে তিন কেজি পর্যন্ত। এসব ফল স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করছেন তিনি। পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা বাগান থেকে এই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ।

উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম আসিফ আরও জানান, বিদেশি এ জাতের ফল চারা রোপণের এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে গাছ গুলোতে ফল ধরা শুরু করে। বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে এই ফলের চাষাবাদের উত্তম সময় হলেও কম বেশি সারা বছরই এর চাষাবাদ করা যায়। দেখতে অনেকটা বাঙ্গি বা তরমুজের মতো হলেও ফলের ভিতরটা অনেকটা গাড়ো হলুদ বর্ণের। স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়।

খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজার গুলোতেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। প্রতি কেজি সাম্মাম ফল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বিদেশি এই ফল চাষে সফলতা দেখে অনেকেই এখন সাম্মাম ফল চাষে ঝুকছেন।

প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে অনেকেই উদ্যোক্তা আসিফের বাগানে এসে এর চাষাবাদে পরামর্শ নিচ্ছেন। তিনিও আন্তরিকতা সহিত সবাইকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, উচ্চ মূল্যের এই ফল চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগীতা দেওয়া হচ্ছে। ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এই ফল চাষাবাদের বিস্তার ঘটাতে পারলে কৃষকরা লাভবানের পাশাপাশি দেশে পুষ্টির চাহিদাও অনেকাংশ পূরণ হবে বলে জানান তিনি।