তিনদিনের ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সরকারি টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার। জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ,নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক,হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে যেন পা ফেলার ঠাই নেই।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের চাপ দেখা যায়। তাদের গন্তব্য চায়ের রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। কেউ আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছেন আবার কেউ ছুটছেন বুকিং দিতে।

এদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার থেকে জানা যায়,শুধু শুক্রবার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার আটশত ৮ টাকা।

অন্যদিকে ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টীম সকাল থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় টহল দিতে দেখা যায়।

জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝর্ণাধারা হামহাম জলপ্রপাত, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ,বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন,শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘী, ২০০ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘী, শমসেরনগর বাঘীছড়া লেক,আলিনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড,ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি,অপরূপ শোভামণ্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেস্টিত সারিবদ্ধ পদ্মছড়া চা বাগান, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মনিপুরী, প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মনিপুরী, টিপরা ও গারোসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সরকারি টানা ছুটিতে এসব আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার থেকে মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটনপ্রেমী ভ্রমণ পিয়াসুদের।এদের মধ্যে স-পরিবারে ও কাপলদের ঘুরতে আসা পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। জীব বৈচিত্র্যের অপরূপ সমাহার ঘুড়ে দেখতে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন এখানে।

লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে যান ঢাকা থেকে মামুন হাসান আহমদ, ঢাকা নরসিংদীর গার্মেন্স কর্মী মনি বেগম,শায়েস্তাগঞ্জের কলেজ ছাত্র অভি,সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী প্রিয়াঙ্খা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের মিনারা খাতুন জানান,‘কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার বন একটি সমৃদ্ধ বন। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য আর জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এই বনটি যে কেউ দেখলে মন জুড়িয়ে যাবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ,মাধবপুর লেকে ও লাউয়াছড়া ঘুরতে যাওয়া সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বললে,‘এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। আব্বু আম্মুর সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। বানরের লাফালাফি দেখেছি। তাছাড়া হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ যাদুঘড় ও লেকের পানি কি বলবো সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছে। মন চাচ্ছে না যেতে।যেকোন ছুটি পেলে আবার আসবো।

লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান,‘শুক্রবার (আজ) পর্যটকের উপচেপড়া ভির ছিল। সামাল দিতে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। এভাবে আগে কখনো হয়নি। শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর মোট পর্যটক এসেছেন ১ হাজার ৩২৩ জন। প্রাপ্তবয়স্ক ১ হাজার ১১২জন, ছাত্র ১৯০ জন, বিদেশী ২১ জন। মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭১ হাজার ৮শত টাকা।’

লাউয়াছড়া ইকো টুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন,‘ছুটিতে লাউয়াছড়াসহ সব পর্যটনকেন্দ্রে প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়।পর্যটকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো ছিল। শনিবার পর্যন্ত পর্যটক বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ‘সময়ের তুলনায় পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে। তবে লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের উপস্থিতি সব সময়েই বেশি হয়ে থাকে।’

ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কমলগঞ্জের সকল পর্যটন এরিয়ায় পুলিশের একটি টীমকে নিয়ে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখছি। নিরবিঘ্নে পর্যটকরা যেন ঘুড়তে পারে সে জন্য আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যবেক্ষন করছি।’

শ্রীমঙ্গলের ওয়াটারলিলি রিসোর্টে এমডি ওয়ালিদ আহসান নাহিদ বলেন,‌ ‘গত কয়েকদিন থেকে আমার হোটেলে কোনো রুম খালি নেই। মানুষ আমাদের শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসছেন এটা আমাদের জন্য আনন্দের। তবে তাদের রুম দিতে পারতেছি না এটা একটু খারাপই লাগছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা সবসময় নিয়োজিত আছি। পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য আমরা কাজ করছি।