
কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সাধ্যমত খাবার দিচ্ছেন। আমার কেউ কেউ তাকে দেখার জন্য ছুটে আসছেন আশে-পাশের এলাকা থেকে। হঠ্যাৎ লোকালয়ে হনুমানকে দেখে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গত প্রায় তিন মাস থেকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কুজাইল বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে দলছুট একটি মুখপোড়া হনুমান।
নতুন পরিবেশে এসে হনুমানটি যেমন উদ্বিগ্ন ছিল। হনুমানটি যেখানেই যায়, সেখানেই কৌতূহলী এলাকাবাসী ভিড় করে সেটিকে দেখার জন্য।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে হনুমানটি মানুষের কাছ থেকে দূরে দূরেই থাকতেন। গাছের ডালে, ঘরের চালে, ভবনের ছাদে ছিল তার বিচরণ। যাদের ঘরের চালে বা ভবণের ছাদে বিচরণ করতেন তারাও থাকতেন আতংকে। অনেকেই আবার প্রাণীটিকে তাড়িয়েও দিত। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে হনুমানটির সঙ্গে স্থানীয়দের বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ আদর করে মুখে তুলে দিচ্ছেন খাবার।
শনিবার বিকেলে হনুমানটি ঘোরাফেরা করছিলেন কুজাইল নমঃশূদ্র পাড়ায়। এক পর্যায়ে ক্ষুধার্ত প্রাণীটি ঢুকে পড়েন ওই গ্রামের নরেশ সরকারের বাড়িতে। এসময় বাড়িতে থাকা লোকজন হনুমানটিকে আদর করে আটা গুলিয়ে খাওয়ান। তবে কোনো ক্ষতিও করেনি।
এর আগে ওই গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে হনুমানটি। এছাড়াও ওই গ্রামের বিকাশ প্রামানিকের বাড়ির ঢুকে বারান্দায় বালতিতে রাখা পানি খেতে দেখা যায়। পরে বাড়িতে থাকা লোকজন হনুমানটির কাছে গিয়ে পানি খাওয়ান।
হনুমানটিকে আটা গুলিয়ে খাবার দেওয়া সুমন বসাক ও নিলমুনি প্রামাণিক বলেন, সাধারণত হনুমান দেখা যায় না। মূলত খাবারের সন্ধানে এটি মানুষের কাছে ছুটে এসেছে। অবুঝ প্রাণীটি যেহেতু বাড়িতে চলে এসেছে তাই খাবার দিয়েছি। আমরা তার কোন ক্ষতি চাইনা। কেউ তাকে বিরক্তও করেনা। হয়তো আবার ফিরে যাবে তার আবাসস্থলে।
স্থানীয় বিকাশ প্রামানিক বলেন, খাবারের সন্ধানে মুখকালো হনুমানটি ছুটছে মানুষের বাড়িতে, কখনও গাছের ডালে। হনুমানটি খাদ্যের অভাবে দলছুট হয়ে এই এলাকায় চলে এসেছে। তবে সে কোথায় থেকে এসেছে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ তাকে দেখে খুব আনন্দ পাচ্ছে, খাবার দিচ্ছে। হনুমানটি যেন সবার আপনজন হয়ে উঠেছে।
নওগাঁ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বনাভূমি কয়ে যাওয়া,খবার সংকট বা কেউ পাচার করতে চেয়েছিল সেখান পালিয়ে লোকালয়ে হনুমান চলে আসতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে হনুমানটিকে যেন কেউ ক্ষতি করতে না পারে। বন বিভাগের উচিত হনুমানটিকে যেন কোন বনে অবমুক্ত করা হয়।
জেলা বন অফিসের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মেহেদীজ্জামান বলেন, দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানকে এলাকাবাসী যেন কোনো ক্ষতি বা বিরক্ত না করেন, সে বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার। যদি লোকালয়ে হনুমানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হনুমান হয়তো আবার লোকালয় থেকে ফিরে যাবে। প্রয়োজনে বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনেক সময় ক্ষুধার্ত থাকার কারনেও লোকালয়ে চলে আসতে পারে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...