বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে জননেত্রী শেখ হাসিনা অনন্য

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে

বাংলাদেশের নিঃশেষ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, মানুষের অধিকার, দেশের অবকাঠামো আবার ফিরে পেল তার রুপ, সর্বত্র উন্নয়নের কাজ শুরু হল। আজ পর্যন্ত তার সময় দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়ন কেমন হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমেরিকান নেতা হেন্রি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একসময় বলত বাংলাদেশ তলা বিহীন ঝুড়ি। সেই বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, ১৯৭৫ ছিল সল্প উন্নত দেশ, ১৯১৫ সালে ছিল নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশ। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০০৮ এর নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ‘ ভিশন – ২০২১’এ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। কিন্তু ২০২১ সালের আগেই সে লক্ষে পৌঁছেছে।

সি আর আই এর মতে, ২০০৯ সালে মাথাপিচু আয় ছিল ৭৫৯ মার্কিন ডলার, ২০১৮ সালে ১৭৫২ মার্কিন ডলার । ২০০৯ সালে দারিদ্রের হার ছিল ৩১.৫%, কমে ২০১৮ সালে ২১.৮%। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০০৯ ছিল ৫%, ২০১৮ সালে গড় ৬.৬% হার। বাংলাদেশের ২০০৯ সালে বাজেট আকার ছিল ৮৯০ বিলিয়ন, ২০১৮ সালে ৪,৬৪৫ বিলিয়ন। দেশরতœ শিক্ষার বাতিঘর, ২০০৭ সালে শিক্ষার হার ছিল ৪৬.৬৬%, যা ২০১৮ সালে ৭৩ % । প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ার হার ছিল ২০০৭ সালে ৪৫%, ২০১৭ সালে কমে ১৮%। ১৪৯৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, ২৬১৯৩ বেসরকারি স্কুলকে সরকারি করা হয়েছে। ১,০৮,২০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ১,০৩,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষককে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ৩৫.৪২ বিলিয়ন বই বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। গত ১০ বছরে টেকনিকাল ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে ৮০০০০০ শিক্ষককে, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ১৫% যা ২০০৭ সালে ছিল ৬%। নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান, নারী শিক্ষার প্রাসার ধটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো নারী ও শিশুশিক্ষার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে শান্তি বৃক্ষ পুরুস্কার দেয়েছে। বর্তমান বেকারের হার ৪.২% যা ২০০৯ সালে ছিল ৫% যেখানে নতুন চাকরি অনুসন্ধানী বাড়ছে ২.৩% । ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। ১.৫ মিলিয়ন মানুষকে চাকরি ও বিনিয়োগের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১২৯৯০০ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের দেবদূত, ১৬৪৩৮ কমিউনিটি মেডিক্যাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলেছে যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০ রকমের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্যাটেলাইট ক্লিনিক আছে প্রায় ৩০০০০। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০০৯ সালে ছিল ৪৯৪২ মেগাওয়াট যা বর্তমানে ২০০০০ মেগাওয়াট। ২০২১ সালে টার্গেট ২৪০০০ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত সম্যসা নিয়ে কাজ করে ফলে ছিট মহল সম্যসা সমাধন কাজ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্রসিমা জয় করেন ফলে তিনি সাউথ সাউথ পুরকার লাভ করেন।

পরিবেশ রক্ষায় তার অবদান অপরিসীম ২০০৯ সালে বনায়নের বৃদ্ধির হার ছিল ৯%, এ এখন ১৭%। বনায়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নেতৃত্বের জন্য ইউ এন পরিবেশ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ প্রদান করেন।

১০টি মেগা প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে বিশেষ করে পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেল সেতু, রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্র, রামপাল কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর শেষ হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্ররেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং শেষ হতে যাওয়া কর্নফুলি টানেল।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮-এ নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতি পূনর্বহাল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবং নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার নিমিত্তে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করছে।

নারী নেতৃত্বের এক উজ্জল নক্ষত্র, নারী উন্নয়নে ৩২৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছিল ২০০৯- ১০ যা ২০১৭-১৮ সেশনে ১৩৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নারী, স্পিকার, মন্ত্রীসহ অনেকে। মানবতার জননী, তিনি সবসময় গরিব দুখী মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ঝামেলায় তিনি নির্দেশ দিতে পারতেন তাদের এদেশ আশার কিন্তু না তিনি বিজিবি জোয়ানদের বললেন তাদেরকে বাংলাদেশে আসতে দাও। তাদের সকল দায়িত্ব নিলেন যেখানে সকল দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য তাকে মাদার অফ হুমানিটি উপাধি দেয়া হয় । বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৪ তম অর্থনীতির দেশ মাথাপিছু আয় ২৬৮৮ মার্কিন ডলার যা গত তিন দশকে সর্বোচ্চ। এভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে । তাই গর্ব করে বলি, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য লিখুন