• শীর্ষ সংবাদ সর্বশেষ
  • প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে বিচারের দাবীতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্কুল প্রধানের চিঠি 

প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে বিচারের দাবীতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্কুল প্রধানের চিঠি 

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
সরকারি সতীশ চন্দ্র (এস.সি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মাশহুদ চৌধুরী।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতিকে জামায়াতের পক্ষের লোক বলে কটাক্ষ
করে বিচারের দাবিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখেছেন সুনামগঞ্জের স্বনামধন্য বিদ্যালয়  সরকারি সতীশ চন্দ্র (এস.সি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মাশহুদ চৌধুরী। এছাড়াও চিঠিতে তিনি একজন ছাড়া গোটা জাতি বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতকে গ্রহণ করে দেশের সংবিধান, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে ব্যর্থ, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার আর্জি জানান।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে জরুরি অবস্থা জারি করার জন্য করা ৭ পৃষ্ঠার একটি আবেদন থেকে এসব কথা জানা যায়। আবেদনটি তিনি নিজের বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে আপলোড করে নিজের নামের ব্যক্তিগত আইডি থেকে শেয়ারও করেছেন।  আবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহিন রহমান।

আবেদনের তৃতীয় পৃষ্টার ‘ঙ’  অনুচ্ছেদে প্রধান শিক্ষক লিখেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তারাও আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশেষে তাদেরকে সংশোধনের জন্যে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আবেদন করা সত্ত্বেও আমার ডিপার্টমেন্টের এবং মহামান্য প্রধান বিচারপতির অনুমতি না পাওয়ায় এখনো তা করা যায়নি। মামলার অনুমতি না দিয়ে মহামান্য প্রধান বিচারপতি এবং আমার ডিপার্টমেন্ট জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়।

৫ম পৃষ্ঠার তৃতীয় অনুচ্ছেদে লিখেছেন ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদেরকে নাক গলানোর লবিং করে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী অনেকটা বেপরওয়া মনোভাব দেখিয়ে মূলত দেশদ্রোহীতায় প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়েছে। বিদেশীরা বন্ধুর পরিচয় দিয়ে এভাবে সফল হলে, পরে কিন্তু তারা এ তথাকথিত সহযোগিতার বিনিময় সুদে আসলে উসূল করে ছাড়বে ঠিকই। এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াদি প্রকাশ্যে দেখা সত্ত্বেও আইন, বিচার ও প্রশাসন বিভাগ, সর্বোপরি জনগণ সম্পূর্ণ নীরব থেকে নিজেদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মতো ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে ফেলে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

একই পৃষ্ঠার চতুর্থ অনুচ্ছেদে  দেশের সংবিধান, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে ব্যর্থ, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় বলে কটাক্ষ করে লিখেছেন “দেশের সংবিধান, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে ব্যর্থ, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে নিম্ন আদালত পর্যন্ত সবাই।”

সর্বশেষ সপ্তম পৃষ্ঠায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে গণ আদালতের ব্যবস্থা করে বিচারের দাবী জানিয়ে লিখেছেন “দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ এ জাতিকে পরিশুদ্ধ করে যথাস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে অবিলম্বে জরুরি অবস্থা জারির ব্যবস্থা করার আবেদন করছি। পাশাপাশি যারা ১। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে প্রত্যাখ্যান করেছে, ২। জামায়াতকে গ্রহণ করেছে, ৩। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদেরকে আহ্বান জানিয়ে দেশদ্রোহী হয়েছে, ৪। দেশের সংবিধান, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে ব্যর্থ, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করেছে এবং ৫। দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদেরকে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অচিরেই উপযুক্ত বিচারের আওতায় এনে বিচার কার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি রাখতে আবেদন করছি।”

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর একই ভাবে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো চিঠির ৪র্থ অনুচ্ছেদে মহামান্য প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে জজ আদালত সবাই সংবিধান, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে ব্যর্থ, অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করেছেন উল্লেখ করে ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রদোহীদের আশ্রয়-পশ্রয় দাতা বলে কটাক্ষ করেছেন।

জামায়াত প্রেমী এই প্রধান শিক্ষকের নামে এর আগে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ ছাপায় সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট দেন। প্রশাসনকে বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অদৃশ্য শক্তির জোড়ে বার বার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাশহুদ চৌধুরীর সাথে কথা বলতে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিস সিলেটের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ বলেন, উনার বিরুদ্ধে অনেক কিছু আমাদের উর্ধতন কতৃপক্ষ অবগত আছেন। একবার যা করেছেন কোনও সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তা করতে পারেনা। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কথাবার্তা বলার অধিকার রাখেন না। উনার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

পরিচালক প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান খান বলেন, উনাকে কি আর কি বলবো। উনি আমাদের উপরই মামলা করে আমাদের পুরষ্কার বিতরণ স্থগিত করে রেখেছেন।  উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সকল ধরনের সহযোগিতা কতৃপক্ষকে করবো।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর