ডিবি পুলিশ পরিচয়ে করতো ছিনতাই, অবশেষে গ্রেফতার ৪

প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের ট্রার্গেট করে একের পর এক ছিনতাইয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি ছিনতাইকারী চক্র। এজন্য ব্যাংকের ভিতর থেকে টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহককে অনুসরণ করতো ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্য। এরপর তার দেয়া তথ্যে চক্রটির বাকী সদস্যরা টার্গেট করা ব্যক্তিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিতো প্রাইভেটকারে। তারপর অমানসিক নির্যাতনের পর টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগীকে ফেলে রেখে যাওয়া হতো সড়কের পাশে।

অবশেষ এই ছিনতাইকারী চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত নগদ টাকা, ডিবি পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় আর দুপুরে আশুলিয়ার বলিভদ্র এলাকায় উত্তরা ব্যাংকের সামনে মো. ইউসুফ নামে এক গ্রাহককে মারধর করে তার কাছে থাকা ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এছাড়া গত তিন মাসে সাভার ও আশুলিয়ায় আলাদা দুটি ঘটনায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে একই কায়দায়।

বলিভদ্র এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার পরিবহন কোম্পানীর ম্যানেজার মো. ইউসুফ বলেন, দুপুরে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাড়াই। এসময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার এসে দাড়িয়ে ভিতর থেকে কয়েকজন বেরিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। তারা ডিবি পুলিশের কটি, হাতে ওয়ারলেস, হ্যান্ডকাফ ও পিস্তল নিয়ে এসেছিলো। এসময় তারা জোর করে আমাকে গাড়িতে ওঠাতে চায়। কিন্তু আমি গাড়িতে না ওঠায় আমার সাথে অনেক ধস্তাধস্তিও হয়। এক পর্যায়ে আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায় তারা। আমি দ্রুত আশুলিয়া থানায় ছুটে এসে বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানা পুলিশ আগুলিয়া বাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশকে জানালে তারা চারাবাগ এলাকা থেকে গাড়িটি আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় চার ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। তবে আমার ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকী টাকা এখনও পাইনি।

পুলিশের দেয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার নবীনগর সোনালী ব্যাংকে ৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেন মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুর রহমান। এসময় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য শাহিন একটি ব্যাগ কাঁধে ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে তাকে অনুসরণ করছিলেন। মূলত শাহিন ছিনতাইকারী দলের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। এরপর টাকা উত্তোলন করে হাবিবুর ব্যাংক থেকে বেরিয়ে নবীনগর এলাকা থেকে একটি বাসে উঠেন। সাভারের উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায় ব্যাংকে হাবিবুরকে অনুসরণ করা ব্যক্তি একই বাসে গিয়ে দৌড়ে উঠছেন।

পুলিশ আরও জানায়, বাস থেকে সাভার স্ট্যান্ডে নেমে অটোরিকশা যোগে রাজাশন আইচা নোয়াদ্দা এলাকায় নিজ

বাসায় রওনা হন হাবিবুর। এসময় শাখা সড়কে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। পরে

প্রাইভেটকার থেকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে জোরপূর্বক

গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর চোখ বেধে ও হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে তাকে নির্যাতন চালাতে থাকে প্রাইভেটকারে থাকা চারজন।

পরে তার কাছে থাকা ৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় ফেলে রেখে

যায়। এঘটনায় হাবিবুর রহমান সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

একই কায়দায় গত ২২ জুন আশুলিয়ার ডেন্ডাবর কবরস্থান রোড থেকে রোস্তম আলীকে প্রাইভেটকারে তুলে অমানসিক নির্যাতন চালায় ছিনতাইকারীরা। পরে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা তার কাছে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় গিয়ে আটক চার ছিনতাইকারীকে সনাক্ত করেছেন সাভারের বাসিন্দা

ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান। তিন মাস আগে আশুলিয়ার কবরস্থান রোড এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার রোস্তম আলীও

তার ঘটনায় এই ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করেন।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) জামাল সিকদার জানান ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছে থেকে ছিনতাইকৃত ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ছিনতাইকারীরা সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও চন্দ্রা এলাকায় ছিনতাই সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা মূলত ব্যাংক থেকে বেশি টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের টার্গেট করে তাকে অনুসরণ করে ছিনতাই করে। এজন্য ব্যাংকে তাদের একজন সোর্স হিসেবে কাজ করে। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য লিখুন