সরাইলে সংক্রমণ বাড়লেও জনসাধারণের মাঝে নেই সচেতনতা

প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ , ২ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে

মোঃ তাসলিম উদ্দিন সরাইল প্রতিনিধিঃ দফায় দফায় বাড়ছে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা, প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কারো মাঝে দেখা মিলছে না নূন্যতম সচেতনতা। সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই প্রতিনিয়ত উপজেলার বিভিন্ন মোড় বাজার গ্রামঞ্চলের দোকানে বা বিভিন্ন যানবাহনে, নৌকায় যাএী পারাপারে দেখা মিলছে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। উপজেলার বড় বাজার, মার্কেট সহ প্রধান সড়কগুলোতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেখা মিলে ঈদ পূর্ববর্তী বাজারের ন্যায় যানজট। এদিকে সরাইল স্বাস্হ্য বিভাগের তথ্যে জানাযায়, প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সরাইলে ৮২ জন করোনা পজিটিভ। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন।প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা প্রচার-প্রচারণা চালালেও,মিলছে না উল্লেখযোগ্য কোনো ফলাফল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে গেলেও তার তোয়াক্কা করছে না কেউই।সৈয়দ নৌশের বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনে করে বলেন, করুনা ভাইরাস এ সরাইলে রুোগী দিন-দিন বৃদ্ধি পাইতেছে কিন্তু ওরা জনগনের মাঝে ঘোরে বেড়াইতেছে, এদের কে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহন করা হইতেছেনা, তিনি অভিযোগ করে,যে কারনে রুোগী দিন-দিন বৃদ্ধি পাইতেছে। আমি প্রশাসনসহ সকলের নিকট অনুরোধ জানাই এখনো সময় আছে,সরকারের দেওয়া স্বাস্হ্যবিধি যাতে মেনে চলে সেই ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তাহা যদি না হয়, সরাইল অবস্থা মহামারী আকার ধারন করবে।

সরেজমিনে দেখাযায়,করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বা করোনা আক্রান্ত পরিবারের লোকজন হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছে। প্রয়োজন মত বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করছে। তাদের মাঝে নেই কোন স্বাস্হ্যবিধি মানা বা সচেতনতা। অনেকে জানান, এই অবস্থা চলতে থাকলে সরাইলে করোনা রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে। সচেতনতার মাধ্যমে রোধ করতে না পারলে মানুষ সংক্রামিত হবে ধারণা অনেকের। এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেলেএলাকায় করোনা মহামারী লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রশাসনিক ভাবে আইন প্রয়োগ করে হোম কোয়ারেন্টাইন ও করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে লকডাউন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাধ্য করতে হবে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরাইল উপজেলা স্বাস্হ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া বলেনঃ মানুষ প্রচলিত স্বাস্হ্যবিধি মানেনা বলেই এ উপজেলায় নতুন করোনা রোগী আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় থেকে রক্ষা পেতে হলে সকলে যার যার অবস্থান থেকে স্বাস্হ্যবিধি যেমন মানতে হবে,সবাইকে মানাতে হবে। করোনা ভাইরাসের সঠিক কোন চিকিৎসা সেবা এখনো আবিস্কার হয়নি। তাই আমাদের সকলকেই সরকারের দেওয়া স্বাস্হ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় চলাফেরা করতে অনুরোধ করেন এ কর্মকর্তা।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতির উদ্বেগ প্রকাশ করে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনাভাইরাস কমিটির সভাপতি এ এস এম মোসা
বলেন, আপনারা জানেন বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্বাস্হ্যবিভাগের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সরকারের দেওয়া স্বাস্হ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় না চলার কারণে দিনের দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায় বাজারে মোড়ে মোড়ে অপ্রয়োজনে মানুষ চলাফেরা করছে সঠিক ভাবে তারা স্বাস্হ্যবিধি মানছে না। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে লোকবল সংকটের জন্য ধীরগতিতে করতে হচ্ছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা করা হচ্ছে। অনেকের মাঝে স্বাস্হ্যবিধি নামানার প্রবনতা বেশি লক্ষ করা যায়। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে মানুষ নিজে থেকে আরো সুরক্ষা থাকতে হবে।স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেরকে বলা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টেন বা আইসোলেশনে যারা আছে তাদের পরিবারের মানুষকে যেন বাহিরে ঘুরাঘুরি করতে না আসে। দরকারি জিনিস পএ যেন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তিনি উপজেলা বাসীকে আহবান করে বলেন,নিজে ও নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করে অজতা বাহিরে আসবেনা। করোনা ভাইরাসের মত মরণবিধি থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্হ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। এখনো পযর্ন্ত এ ভাইরাসের কোন চিকিৎসা আবিষ্কার হয় নাই। বাচঁতে হলে ঘরে থাকতে হবে।

এদিকে সর্বশেষ আজ (বুধবার) উপজেলায় আরো ৪ জন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়।এদের মধ্যে প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের ১ জন, কালিকচ্ছের ১জন, বিটঘরের ১জন সদরের ১ জন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরাইল উপজেলা স্বাস্হ্য বিভাগ।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর