সরাইলে পরিকল্পিত নজিরবিহীন গ্রাম্য হামলায় রক্ষা পায়নি কুকুর !

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ , ১৬ মার্চ ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

মোঃ তাসলিম উদ্দিন সরাইল প্রতিনিধিঃ পরিকল্পিত নজিরবিহীন গ্রাম্য হামলায় রক্ষা পায়নি কুকুর !আগের রাতে সুদের টাকা দেওয়া নেওয়া নিয়ে দু-জনের মাঝে তর্ক তাপর পক্ষে-বিপক্ষে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তিন ঘন্টার সংঘাতে আহত হয় কয়েক জন। আহতদেরকে স্হানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতের পর সকালে সুপরিকল্পিত নজিরবিহীন গ্রাম্য হামলা, আট গোষ্ঠীর লাঠিয়ালরা নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়ে বসত বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এ অগ্নিসংযোগে দুটি ঘুমন্ত কুকুর মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ কুকুর হত্যার বিচার দাবী করেছে বলে জানাযায়, এ নজির বিহীন হামলা সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলা বর্ডার বাজার এলাকায় চালানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সুদের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের লোকদের মাঝে দু’দফা ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।এতে
স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও সংঘর্ষ চলাকালে ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাঘটে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ও রোববার সন্ধ্যায়উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কালিকচ্ছ মধ্যপাড়া বর্ডারবাজার এলাকায় দু’দফা এ সংঘর্ষ হয়।কালিকচ্ছ ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত আলী ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন জানান, কালিকচ্ছ মধ্যপাড়ার বাসিন্দা জামাল মিয়াও সেলিম মিয়ার মধ্যে সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। রোববার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বর্ডার বাজার এলাকায় দু’জনের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হলে সেখানে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সেলিম মিয়ার বিয়াই ও গ্রামের সর্দার মানিক মিয়াতারা বিষয়টি সমাধান করতে আগামি বৃহস্পতিবারসালিশ সভার তারিখ নির্ধারণ করে। এসময় কিছু উশৃংখলযুবক লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসলে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির সুমন খবর পেয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টায় এগিয়ে আসলে তিনিমাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এসেরাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেএ সংঘর্ষেদু’পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদিকে এর জের ধরে সকালে দু’পক্ষের লোকজন ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।সরেজমিনে দেখা যায়,স্থানীয় মালেক মিয়াসহ আরও কয়েকটি বাড়িতে দাঙ্গাবাজরা লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেরাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এসংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েক জনকে আটক করে।

সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মোঃ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, রোববার রাতে পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের মীমাংসার জন্য বলা হয় কিন্তু আজকে সকালে পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতিএখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন