• জাতীয় শীর্ষ সংবাদ
  • সরকারি চাকুরীতে চরম বেতন বৈষম্য নিরসন সহ আট দফা দাবীতে বিশাল মানববন্ধনের ডাক

সরকারি চাকুরীতে চরম বেতন বৈষম্য নিরসন সহ আট দফা দাবীতে বিশাল মানববন্ধনের ডাক

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ , ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
রুবেল আহমেদ(বিশেষ প্রতিনিধি):- সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ডাক ঢোল পিটিয়ে বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সকলস্তরের কর্মচারীদের জন্য একটি সুষম পে-স্কেল ঘোষনার উদ্দেশ্যে পে-কমিশন গঠন করা হলো ২০১৩ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণরকে প্রধান করে গঠিত কমিশন মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যাছাই-বাছাই করে একটি সুষম পে-স্কেল প্রস্তাবও করেছিলো। সেখানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ১৮,০০০/- টাকা এবং গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১২ করার প্রস্তাব করেছিল, বলে শুনা যায়। কিন্তু উপরস্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধে সেটা পরিবর্তিত হয়ে সর্বনিম্ন স্কেল ১২,০০০/- টাকা এবং গ্রেড সংখ্যা ষোল করা হয়। কিন্তু সুবিধাভোগীদের শকুনি দৃষ্টি বলে কথা, তারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পে-কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তব সম্মত নয় বলে উক্ত প্রস্তাবনাকে কচুকাটা করার জন্য গঠন করলো সচিব কমিটি। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা পে-কমিশনের প্রস্তাবনা যদি সচিব কমিটি দিয়ে কাটাছিড়া করতে হয় তাহলে পে-কমিশিনের প্রয়োজনটা কি ছিলো? সচিব মহোদয়গণকে দিয়েই তো তারা বিজ্ঞতার বলে একটা পে-স্কেল দিতে পারতো। সেক্ষেত্রে সরকারের এতো অর্থের অপচয় হতো না, এতো লঙ্কা-কান্ডও ঘটতো না। যাহোক শেষ পর্যন্ত সচিব কমিটি দিয়েই কাটাকুটি করে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হলো, ফলে যা হবার তাই হলো। যেই লাউ সেই কদু। বৈষম্যতো কমলো না, আরো বাড়লো এবং চরমভাবে বাড়লো। গ্রেড সংখ্যা ১২ বা ১৬ টাতে নামা দূরে থাকুক বরং কমার পরিবর্তে ২টি বেড়ে গ্রেড হলো ২২টা। ২০তম গ্রেডের উপর আরো দুটি গ্রেড লুকোচুরি খেলার মতো লুকিয়ে রেখে পে-স্কেল ঘোষনা হলো।

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নির্বাহী পরিষদের সদস্য খান আতাউর রহমান বলেন, সেখানে যে চরম বৈষম্যের নতুন দেয়াল রচনা করা হলো, তা একটুখানি খেয়াল করলেই যে কারো কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে।১ম গ্রেডে বেতন স্কেল ৭৮,০০০ টাকা কিন্তু ২০ তম গ্রেডে মাত্র ৮,২৫০ টাকা। আবার ১ম গ্রেডের উপরে আরও দুটি গ্রেড রয়েছে। গ্রেড ১- ১০ নং এর মোট পার্থক্য- ৬৫,৫০০ টাকা অপরদিকে গ্রেড ১১-২০ নং এর পার্থক্য মাত্র- ৪,২৫০ টাকা। আবার নিচের দিকের এক গ্রেড থেকে পরের গ্রেডের পার্থক্য মাত্র ২ থেকে ৩শ টাকা, যা তাদের সাথে মজা করা বা তামাশা করার মতো। ২০১৫ সালের পে-স্কেলের আগে নিয়ম ছিল, আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রথমবারের মতো গ্রেড উন্নীত হবে, যাকে টাইম স্কেল বলা হতো। ২০১৫ সালের পে-স্কেলে তা বাদ দিয়ে নিয়ম করা হয়, ১০ বছর চাকরির পর প্রথমবারের মতো গ্রেড পরিবর্তন হবে। ধরা যাক, একজন ১৮ নম্বর ধাপে চাকরি শুরু করেছেন। ১০ বছর অপেক্ষার পর তার বেতন বাড়বে ২০০ টাকা। এটা কি চরম অপমান ও ঠাট্টা-তামাশার বিষয় নয়?

তিনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান যেখানে উপরের এক গ্রেড পরিবর্তনে বেতন বাড়ে দশ থেকে ছয় হাজার টাকা, সব গ্রেডে সমানহারে বেতন বাড়লে ক্ষতি কী? বেতন গ্রেডের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্নের পার্থক্য বের করে ১৯ দিয়ে ভাগ করলে যা হয় (৭৮০০০-৮২৫০/১৯=৩৬৭১ বা ৩০০০/৪০০০), প্রতি গ্রেডে পার্থক্য তাহলে অসুবিধা কোথায়?
২০ তম গ্রেড ৮২৫০/- আর ১০ তম গ্রেড ১৬০০০/-
এই রেশিওমতে ১ম গ্রেড হওয়ার কথা ৩২০০০/-
কিন্তু সেটা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আবার ৯ম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ২২০০০/- তিন ধাপ পর হয় ৬৬,০০০/- বৃদ্ধির হার ২০০%। ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৯৩০০/- তিন ধাপ পর হয় ১১,০০০/- বৃদ্ধির হার ১৮.২০%,
২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন-৮২৫০/- তিন ধাপ পর হয় ৯,০০০/- বৃদ্ধির হার ৯.০৯%।
কিন্তু কেন। তাইতো বর্তমান বাজারে নিম্নপদস্থ কর্মচারীগণ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে, তাদের অবস্থা এখন অনেকটা জিম্মি দশার মতো। ২০ গ্রেডের ৮,২৫০/- টাকা স্কেলের একজন কর্মচারী সব মিলিয়ে ১৪,৪৫০/- টাকা পায় যা দিয়ে বর্তমান বাজারদরে ০৬ (ছয়) সদস্যের পরিবার বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও টিফিন খরচ সহ পুরো মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য ক্রয় করে সাংসারিক যোগান দেওয়া অসম্ভব।

খান আতাউর রহমান আরো জানান, আবার একই ডিপার্টমেন্টের একই গ্রেডের একই পে-স্কেলের একটি পদের পদন্নোতি হচ্ছে অথচ অন্য পদের পদোন্নতি নেই। সারাজীবন একই পদে চাকুরী নিয়ে হতাশা ও বিষন্নতায় অবসরে যাচ্ছে তারা। চাকুরী জীবনে যেমন চরমভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে উপরন্তু বেতন স্কেল না বাড়ায় তাঁর পেনশনও অনেক কম। অর্থ্যাৎ বুড়ো বয়সের অবসর জীবনেও তাকে খেয়ে না খেয়ে মরতে হবে ধুঁকে ধুঁকে। আবার সরকার অর্ধেক পেনশন কেটে রেখে দিচ্ছে, যার কারনে শেষ জীবনে একটি আবাসস্থল কিংবা সন্তানদের জন্য কিছু রেখে যাওয়া অসম্ভব। কিন্তু কেন এত বৈষম্য থাকবে? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অথচ দুর্নীতিবাজরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পরিহাসের বিষয়, দেশের জন্য যারা খাটছে তাদের সামান্য কটা টাকা বাড়তি দেয়াতে সরকার দেওলিয়া হয়ে যাবে???

তিনি বলেন, উপরের গ্রেডের চাকুরিজীবীরা হয়তো বলতে পারেন, নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে জনবল বেশি। তাই তাদের বেশি বেতন দিতে গেলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। দেশের প্রতি তাদের এতই যদি মায়া থাকে, তাহলে নিজেদের গ্রেডগুলোর মধ্যকার পার্থক্য এত বেশি করলেন কেন? এমনিতেই উপরের দিকের গ্রেডে চাকরি করছেন, এরপর বেতন বৃদ্ধি যদি নিচের দিকের গ্রেডগুলোর চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি হতো, তবুও কম হতো না। কিন্তু তাদের বেতন বাড়ে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর চেয়ে ২০-২৫ গুণ বেশি। তাদের এত বেতন দিতে গেলে দেশের অর্থনীতির ওপর কি চাপ পড়ে না? এসব হচ্ছে বাহানা। নিজেরা বেতন কম নিয়ে দেশপ্রেমের কথা বললে তা সত্যিকার দেশপ্রেম হতো।

পরে তিনি জানান, প্রয়োজন ইতিবাচক চিন্তার। আমলা নামক হিংসুটে থাবা থেকে দেশের অসহায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের মুক্তি দিতে না পারলে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাই সকল ডিপার্টমেন্টের সকল পদের কর্মচারীদের পদোন্নতি থাকতে হবে, যদি পদোন্নতির পদ না থাকে তাহলে ৫ (পাঁচ) বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। বেতন বৈষম্য কমাতে গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে।

সমস্যা হলো, নিম্নস্তরের কর্মচারীদের চাপা কান্না শোনার মতো কেউ নেই। শোষিতজনের আর্তনাদে দরদী হওয়ার মতো জন বর্তমানে নেই। একজন ছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নস্তরের কর্মচারীগণের দাবীর পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। সেই নেতা নেই, তর্জনীর সাবধানী সংকেত আর বজ্রকন্ঠের হুংকারও নেই। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো নব্যযুগের মিরজাফরেরা। সেই মিরজাফরের দোষররা আজো কৌশলে অসহায় নিম্নশ্রেনীর কর্মচারীগনের রক্ত পান করে চলেছে। তাঁর কন্যা মজলূম মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হলেও সুবিধাভোগীরা চারপাশে এমন দেয়াল তৈরি করে রেখেছেন যাতে মজলুমের কান্না তাঁর কানে পৌঁছাতে না পারে।

তাই বঞ্চিত মানুষের একতাবদ্ধ হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি বঞ্চণার, মানবতার নেত্রী, উন্নয়নের কান্ডারী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নজরেও নেয়া প্রয়োজন।
এজন্য আট দফা দাবীতে আগামী ০৭/০২/২০ইং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, ঢাকায় বিশাল মানববন্ধনে সকল সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীগনদের অংশ নিয়ে মানববন্ধন সফল করতে হবে।

কেন্দ্রীয় আহবায়কের পক্ষে-
খান আতাউর রহমান,
সদস্য, কেন্দ্রীয় আহবায়ক নির্বাহী পরিষদ,
১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবিদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম।
জেলা আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে-
জনাব মোঃ আনিসুর রহমান
সদস্য সচিব ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা কমিটি।

মন্তব্য লিখুন