শুভ জন্মদিন জাদুকর রোনালদিনহো!

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ , ২১ মার্চ ২০২০, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে
ronaldinho

‘শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি রোনালদিনহো। ফুটবল খেলাটিকে এত সুন্দর করে তোলার জন্য ধন্যবাদ’, ‘মায়েস্ত্রোদের মায়েস্ত্রো, রাজাদের রাজা—আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা’—জন্মদিনে ভক্তদের কাছ থেকে এমন সব শ্রদ্ধাঞ্জলি পাচ্ছেন রোনালদিনহো। প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের জেলে যদি অন্তর্জাল সমৃদ্ধ মোবাইল তাঁর হাতে না থাকে তাহলে এগুলো দেখবেন কী করে আর আপ্লুতই-বা হবেন কী করে!

রোনালদিনহোর ফুটবলের সৌন্দর্য কেমন ছিল তা কি আর কারও অজানা! তবু কিছু উদাহরণ দেওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। ‘নো লুক’ পাসের আবিষ্কর্তা তিনি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে নাট-মেগে ঘোল খাওয়ানো অথবা তাঁর বাইসাইকেল কিক বা অচিন্তনীয় সব ফ্রি-কিক আর কারিকুরি দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমিক।

বার্সেলোনায় তাঁর শুরুর দিকে লা লিগার একটা ম্যাচে রেফারি কোনো একটা কারণে খেলা থামিয়েছিলেন। একটা বল পড়েছিল মাঠে, এর মধ্যে আরেকটা বল মাঠে চলে আসে। এমন সময়ে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই কি করবেন? বলটি লাথি মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু রোনালদিনহো তো আর দশজনের মতো নন। তিনি বলটির দিকে এগিয়ে গেলেন, মুখে সেই চিরপরিচিত হাসি। ডান পায়ের বুট দিয়ে বলটিকে ঘুরিয়ে ওপরে তুললেন, সেটিকে নিলেন বাঁ পায়ে। অ্যাঙ্কেল দিয়ে বলটি ওপরে তুলে ব্যাকহিল করে মাঠের বাইরে পাঠালেন বল।

বলটি ঠিক গিয়ে পড়েছিল বলবয়ের হাতে। বলবয় বলটি হাতে নিয়ে হাসছিলেন, ভাবখানা এমন ছিল যেন মুহূর্তটা তাঁর। ন্যু ক্যাম্পের পুরো গ্যালারি তখন মুখরিত হাততালিতে। রোনালদিনহোর মুখে সেই হাসি। তখন আসলে হাসছিল পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই। মুহূর্তটি যে ফুটবল ভালোবাসা সব মানুষদের জন্যই ছিল অবিস্মরণীয়।

ফুটবল নামের গোলক দিয়ে বিশ্বকে মোহিত করা রোনালদিনহোর গল্পের শুরু ১৯৮০ সালের ২১ মার্চ। এই দিনে পোর্তো আলেগ্রেতে জন্ম তাঁর। সেই সময়ে ব্রাজিল ডুবে ছিল দুর্নীতি আর অপরাধের জালে। তবে রোনালদিনহোদের দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু হঠাৎই সুখী পরিবারটিতে নেমে আসে অন্ধকার। রোনালদিনহোর বাবা জোয়াও একদিন পারিবারিক সুইমিংপুলে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। রোনালদিনহোর সেবিকা মায়ের জন্য সংসার বয়ে বেড়ানোটা কঠিন হয়ে পড়ে।

রোনালদিনহোর বয়স তখন আট বছর। তাঁর বড় ভাই রবার্তোর ১৭। মায়ের কষ্ট লাঘব করতে রবার্তো স্কুল ছেড়ে আয়ের পথে নামেন। আর আয়ের জন্য একটা পথই রবার্তোর জানা ছিল, সেটি ফুটবল খেলা। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার রবার্তোই ছিলেন রোনালদিনহোর ফুটবল-গুরু। ভাই-ই রোনালদিনহোর কানে পুঁতে দিয়েছিলেন একটি মন্ত্র—ফুটবল শুধু খেলার জন্য খেলো না, ফুটবল একটা বিনোদন। মানুষকে বিনোদিত করতে পারলেই খেলাটা খেলতে এসো! শুভ জন্মদিন জাদুকর রোনালদিনহো!

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর