শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী আমির খান!

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ , ১৪ মার্চ ২০২০, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

সমসাময়িক নায়কদের তুলনায় তাঁর শারীরীক উচ্চতা কম,কিন্তু নায়কখ্যাতির উচ্চতা বেশি।অন্যদের তুলনায় ছবি করেছেন কম,কিন্তু দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছেন তার চেয়েও অনেক বেশি। সেই আশির দশকের ‘রাজ’ থেকে নব্বই দশকের ‘মুন্না,রাজা’ কিংবা পরবর্তীতে ভুবন, ডিজে পেরিয়ে হালের মহাবীর সিং চরিত্র দিয়ে নিজেকে ভেঙেছেন বারংবার,চিরাচরিত ধারা থেকে নিজেকে বেরিয়ে এনে দারুন সফল হয়েছেন,একজন বিনোদন জগতের সফল মানুষ হয়েও সমাজের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে টিভি অনুষ্টান করেছেন,নিজের জনপ্রিয়তা যেন আরো বাড়িয়ে চলেছেন,সুনির্বচনীয় নায়ক হিসেবে পেয়েছেন ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ খ্যাতি।তিনি বলিউড তথা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় নায়ক ‘আমির খান’।

বাবা তাহির হুসেন ছিল চলচ্চিত্র প্রযোজক,ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন সাংস্কৃতিক বলয়।তবে বাবার প্রযোজিত ছবিগুলোর ব্যবসা ভালো না করায় অর্থনৈতিক সমস্যা ছিল।শিশু শিল্পী হিসেবে প্রথম ছবি ‘ইঁয়াদো কি বারাত’,কিশোর বয়সে এসে অভিনয় করেন ‘হোলি’ ছবিতে,এই সময় তিনি থিয়েটারেও কাজ করতেন।নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি ‘ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক’,চাচা নাসির হুসেন পরিচালিত প্রথম ছবিতেই বাজিমাৎ,রোমান্টিক ধারার এই ছবিতে দারুন সাফল্য পেয়েছিলেন,ছবিটি জাতীয় পুরস্কার ও পেয়েছিল।এর ঠিক পরের বছরেই করেছিলেন পুরো ভিন্নধর্মী ছবি ‘রাখ’,আর তাতেই আসে বিশেষ জুরি জাতীয় পুরস্কার।

এরপর শুরু হল নব্বই দশক,একে একে করলেন দিল,দিল হ্যায় কি মানতা নেহি,জো জিতা ওহি সিকান্দার,হাম হ্যাঁ রাহি প্যায়ার কেঁ,গুলাম,আকেলে হাম আকেলে তুম,ঈশক,আর্থ,মন,সারফোরশের মত ছবি।তবে আলাদা করে বলতে হয় তিনটি ছবি,একটি ভারতীয় কমেডি ছবির ইতিহাসে অন্যতম সেরা ছবি ‘আন্দাজ আপনা আপনা’,অন্য দুইটি আমির খানের ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা ছবি ‘রঙীলা’,যেটি স্থান করে নিয়েছে চিরসবুজ ছবির তালিকায়,অন্যটি নব্বই দশকে তাঁর সবচেয়ে ব্যবসা করা ছবি ‘রাজা হিন্দুস্তানি’,এই ছবির গান আজো সমান জনপ্রিয়।

২০০০ এর দশকে শুরুতেই ‘মেলা’র মত ফ্লপ ছবি দিয়ে একটা ধাক্কা খেয়েছিলেন,তবে সেটা দারুন ভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন ঠিক পরের বছরেই,উপহার দিয়েছিলেন নিজের প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘লাগান’,ভারতের হয়ে অস্কার যাত্রা করা এই ছবিতে তিনি তাক লাগানো অভিনয় করেছিলেন,ছবিগুলোর গান ও জনপ্রিয়,বাণিজ্যিক সফল এই ছবিটি বিভিন্ন শাখায় জাতীয় পুরস্কার ও পেয়েছিল।ক্রিকেট নির্ভর এই ছবিটি ভারতীয় ক্রিকেট দল কে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল,অন্যটি বলিউডে প্রথা ভাঙা তারুন্য ও বন্ধুত্বের গল্প ‘দিল চ্যাহতা হ্যায়’,সিনেমাপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের এই ছবিটি। এই ছবিটিও একাধিক শাখায় জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছিল।একই বছর সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ধারার ছবিতে অভিনয় করে দারুন সময় কাটিয়েছিলেন।কিন্তু এরপর টানা চার বছর বিরতি,২০০৫ সালে ফিরে এলেন ‘মঙ্গল পান্ডে’ ছবি দিয়ে,অবশ্য ছবিটি খুব সাড়া ফেলেনি।এর পরের বছরেই নিয়ে আসলেন দুইটি ছবি,’ফানাহ’ র পর দেশপ্রেম ও তারুন্যের গল্প নির্ভর হৃদয়স্পর্শী ছবি ‘রঙ দে বাসন্তী’,দর্শক থেকে সমালোচক সর্বমহলে পছন্দের ছবি এটি। ২০০৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থার উপর মুক্তি পায় ‘তারে জামিন পার’,নিজের নামের পাশে যোগ করলেন পরিচালক বিশেষণ,পাশাপাশি একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করলেন।এটিও দারুন সাড়া জাগানো ছবি।

বলিউডের ইতিহাসে প্রথম ১০০ কোটি রুপি আয় ছবি ‘গজিনি’র নায়ক ও তিনি,একটি তামিল ছবির রিমেক এই ছবিতে আমির খানের দুর্দান্ত অভিনয় এই ছবির অন্যতম প্রাণ।এর ঠিক পরের ছবি যেন একটি ইতিহাস,এই ছবি দর্শক থেকে সমালোচকদের কাছে চিরসবুজ ছবির তালিকায় সর্বাগ্রে থাকবে,বক্স অফিসের দিকেও মাইলফলক ছবি এটি,প্রথম ২০০ কোটি আয় করা ছবি। বলিউডের ইতিহাসে সেই বিখ্যাত ছবিটির নাম ‘থ্রি ইডিয়টস’।

‘ধোবি ঘাট’ এর পর অভিনয় করেছিলেন ‘তালাশ’ ছবিতে,কিন্তু সেইভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি,তারপর অভিনয় করলেন জনপ্রিয় ধুম সিরিজের তৃতীয় কিস্তিতে,বক্স অফিসে দারুন বাজিমাৎ করলেও আমির খানের সিনেমা হিসেবে দর্শকদের সেইভাবে মনে ধরেনি।এর ঠিক পরের বছরেই আবার ফিরে এলেন সদর্পে,যেই ছবি সর্বমহলে স্থান করে নিয়েছিল,নিজেও করেছিল দারুন অভিনয়,বক্স অফিস বাজিমাৎ করা ছবিটির নাম পিকে। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় সত্য কাহিনী থেকে অনুপ্রানিত ছবি ‘দঙ্গল’,বরাবরের মত এটিও বক্স অফিস বাজিমাৎ করে,প্রথম ৩০০ কোটি আয় করা হিন্দি ছবি,সমালোচক গ্রহনযোগ্যতা তো আছেই। সঙ্গীত নির্ভর ছবি ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ এ একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ এ বহু দিনের মান অভিমান ভুলে প্রথম বারের মতন এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। তবে এই ছবি দর্শক থেকে সমালোচক সবাই হতাশ হয়েছেন।নিজের অভিনীত সিনেমার বাইরেও একাধিক ছবি প্রযোজনা করেছেন তার মধ্যে জানে তু ইয়া জানে না,পিপলি লাইভ, দিল্লি বেলি,তিনটি ছবিই বলিউডে বিশেষ মর্যাদা পাওয়া ছবি।এছাড়া চিত্রনাট্যকার ও গায়ক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি আছে,টেলিভিশনে ‘সত্যমেভ জয়তে’ উপস্থাপনা করে দারুন সাড়া ফেলেছিলেন।

ক্যারিয়ারে তিনি ঝুঁকি নিতে ভালোবাসেন,আর তাইতো এইবার নিজেকে নিরীক্ষার জন্য সঁপে দিলে হলিউডের কালজয়ী ছবি ‘ফরেস্ট গাম্প’এর রিমেক ‘লাল চিং চাড্ডা’য়। উনার মত বিচক্ষন মানুষ ও জানেন,যতই ভালো হউক ছবি তবুও দর্শকদের মনোরঞ্জন হবে না,আর দূর্বল হলেতো সমালোচনার অন্ত থাকবে না। তবুও তিনি নিজের ইচ্ছার মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন আত্ববিশ্বাস আছে বলেই,আর দর্শকেরাও এখনো পর্যন্ত আস্থা রাখছেন নামটা আমির খান বলেই। গজিনি ২ করার কথা শুনা যাচ্ছে,দেখা যাক সেটার কতটুকু ফলিত হয়!

বর্নিল ক্যারিয়ারে পেয়েছেন পদ্মশ্রী, চারটি জাতীয় পুরস্কার,তবে সেরা অভিনেতা বিভাগে পুরস্কার পাওয়াটা আজো অধরা থেকে গেছে,আশা করি সেটা অতি শীঘ্রই পূর্ণতা পাবে।এছাড়া সেরা অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন তিনবার,এছাড়া পরিচালক বিভাগ ছাড়াও সমালোচক,নবাগত সব ক্যাটাগরিতেই পুরস্কার পেয়েছেন। বলিউডে জুটি প্রথা বেশ লক্ষ্যনীয়,তবে তিনি একমাত্র জুহি চাওলা ছাড়া আর কারোসাথেই সেভাবে জুটি বাঁধেন নি।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন দুইবার,প্রথমে ভালোবেসে বিয়ে করেন রীনা দত্ত,প্রায় একসঙ্গে ১৬ বছর সংসার করার পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে,এরপর বিয়ে করেন কিরন রাও কে, তিন সন্তানের জনক তিনি।

১৯৬৫ সালের আজকের এইদিনে জন্মগ্রহণ করা এই স্বনামধন্য অভিনেতা আজ পেরোচ্ছেন জীবনের ৫৫ টি বছর,শুভকামনা রইলো।

বিষয়:

মন্তব্য লিখুন